হিজলা উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ টিপু সিকদারের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কাউরিয়া বাজারে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে সকাল ৯ ঘটিকার সময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। আজ ২৬ আগস্ট সকাল ১১ ঘটিকার সময় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সুলতান মাহমুদ টিপু বরিশাল জেলাধীন হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন, ছিলেন হিজলা উপজেলা পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
জানাজায় অংশ নিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ জনগণ ভিড় করেন। প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে এসে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি অসংখ্য অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে জানাজার পরিবেশ।
সুলতান মাহমুদ টিপু মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ১৯৮৯ সালের কাউন্সিলে হিজলা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে তৃণমূল রাজনীতিতে নেতৃত্বের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের কাউন্সিলে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু সেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তিনি ২০০৯ সালে প্রথমবার হিজলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, পরবর্তীতে ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বারের মত চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক অত্যন্ত সমাদৃত, কর্মীবান্ধব, সদালাপী ও সদাহাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রয়াণে কেবল হিজলা আওয়ামী লীগই নয়, গোটা হিজলাবাসী একজন অভিভাবকতুল্য প্রিয় মানুষকে হারাল। জানাজায় উপস্থিত অনেকে তাকে শেষ একবার দেখতে পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
তার বাবা মরহুম হাসান মাহমুদ সিকদার হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তার ছোট ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলতাফ মাহমুদ দিপু সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে হিজলা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। মৃত্যকালে তিনি বৃদ্ধ মাতা, এক স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্র ও দুই ভাইসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।









