কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রবাসী সাংবাদিক হাসান ইমাম ইবনে হাবীবকে প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানোর একটি খবর সামনে এসেছে। ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় ব্যবহার করে প্রেরিত সেই চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্বাধীন মতামত ও লেখালেখি অবিলম্বে বন্ধ না করলে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই ঘটনায় নিজের ও দেশের বাড়িতে অবস্থানরত স্বজনদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা ভেবে সাংবাদিক হাসান ইমাম বুধবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছেন।
থানায় জমা দেওয়া সাধারণ ডায়েরির লিখিত বিবরণী অনুযায়ী, ঘটনার দিন বুধবার ভোরে ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমদিয়া গ্রামে হাসান ইমামের পৈতৃক বাসভবনের প্রধান ফটকের নিচ দিয়ে রহস্যজনকভাবে একটি সাদা খাম ভেতরে গলিয়ে রেখে যায় অজ্ঞাত পরিচয়ের কেউ। সকালে পরিবারের সদস্যরা দরজা খুলে খামটি পড়ে থাকতে দেখেন এবং সেটি উদ্ধার করেন। খামের ভেতরে থাকা চিঠিতে সাংবাদিক হাসান ইমামের সাম্প্রতিক ফেসবুক স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও নিয়মিত লেখালেখি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে হুমকিদাতারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছে, ‘আপনার মুভমেন্ট আমরা সব সময় নজর রাখছি’। পাশাপাশি এসব লেখালেখি ও স্বাধীন মতামত প্রকাশ থেকে অবিলম্বে সরে না দাঁড়ালে তাঁকে প্রাণনাশের শিকার হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক হাসান ইমাম প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশ ও নিজ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক বক্তব্য ও নিজস্ব বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তাঁর পরিবারের ধারণামতে, কোনো একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বস্তুনিষ্ঠ লেখায় সংক্ষুব্ধ হয়ে পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতেই এই বেনামী চিঠির পথ বেছে নিয়েছে। প্রবাসী হওয়ায় সরাসরি কোনো আঘাত না করতে পারলেও দেশের বাড়িতে থাকা প্রবীণ স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি।
ভেড়ামারা থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের একটি দল ইতোমধ্যেই তদন্তে নেমেছে। চিঠির উৎস শনাক্ত করতে হিড়িমদিয়া গ্রামের আশপাশের সড়ক ও বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে এই বেনামী চিঠির পেছনে কলকাঠি নাড়া চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে একজন মুক্ত পেশাদার সাংবাদিকের পারিবারিক ঠিকানায় গিয়ে এমন নজরদারি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। স্বাধীন মতপ্রকাশে বাধার সৃষ্টি এবং মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর এই আঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন তাঁরা।









