দিনাজপুর সদর উপজেলার পুলহাট বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় চালের কলের গোপন গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। লাইসেন্স ছাড়া কৃষির অতি জরুরি এসব সার মজুত রাখার দায়ে মেসার্স ফুয়াদ ইন্ডাস্ট্রিজ রাইস মিলের মালিক মনোহর আলমকে (৬৫) ১ মাস ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শাস্তি শোনানোর পাশাপাশি তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করার আদেশ দেন আদালত।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পুলহাট বিসিক এলাকার উক্ত চালের কলে যৌথভাবে এ অভিযান চালায় প্রশাসন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহায়তায় মেসার্স ফুয়াদ ইন্ডাস্ট্রিজ রাইস মিলের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে ২১৭ বস্তা সার পাওয়া যায়। জব্দ করা এসব কৃষি সারের মধ্যে ছিল ১৭০ বস্তা ইউরিয়া ও ৪৭ বস্তা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি)। সরকারি হিসাব অনুযায়ী উদ্ধার করা এই সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
কৃষি দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাঠে সারের চাহিদা বাড়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাধারণ চাল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের নাম করে মেসার্স ফুয়াদ ইন্ডাস্ট্রিজের গোপন গুদামে বছরের পর বছর সারের অবৈধ কারবার বা মজিদ পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় মিলের মালিক মনোহর আলমের কাছে রাসায়নিক সার মজুত বা বিক্রির আইনগত কোনো লাইসেন্স বা ডিলারশিপের কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে না পেরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। অন্যায়ভাবে পণ্য হাতানোর দায় স্বীকার করায় সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সাজা প্রদান করে।
অভিযান পরিচালনা করা দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন শরীফ জানান, মেসার্স ফুয়াদ ইন্ডাস্ট্রিজ চালের কলে অবৈধ সার গচ্ছিত রাখার সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে ইউরিয়া ও ডিএপি সার হস্তগত করার পর অপরাধ স্বীকার করায় আইনানুযায়ী মিলের মালিককে জেল ও জরিমানা করা হয়।
ইউএনও আরও স্পষ্ট করেন, জব্দ সারসমূহ সঙ্গে সঙ্গে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিকট নিরাপদ জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কৃত্রিম সংকট দূর করতে এবং স্থানীয় মাঠের কৃষকদের সার্বিক সুবিধার্থে এসব ইউরিয়া ও ডিএপি সার নির্ধারিত সরকারি দামে উন্মুক্ত বাজারে দ্রুত বিক্রি করে দেওয়া হবে। বিক্রয়ের পুরো টাকা চালান মারফত সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুরকে উদ্বৃত্ত খাদ্য ও কৃষি অঞ্চল উল্লেখ করে কর্মকর্তারা জানান, মাঠ পর্যায়ে সারের কৃত্রিম অভাব তৈরি করতে দেওয়া হবে না। ওইদিনের অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম তুষার, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুন্নবী এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা। কৃত্রিম সংকট বা অনিয়মের বিরুদ্ধে পুরো উপজেলায় এমন তদারকি অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।









