ট্রেনে তল্লাশিতে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

ঢাকাগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেনে আকস্মিকভাবে যাত্রা বিরতি ঘটিয়ে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা উপবন এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অনির্ধারিতভাবে থামিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ট্রেনের একটি বগির টয়লেট থেকে মোট ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভোরে সিলেট রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপারের কাছ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে উপবন এক্সপ্রেসকে যাত্রা বিরতি না থাকা সত্ত্বেও থামানো হয় এবং বিশেষভাবে তল্লাশি শুরু করা হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ট্রেন থামানোর পর রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা একাধিক বগিতে তল্লাশি চালান। বিশেষ করে সন্দেহভাজন অংশগুলো ঘিরে নিবিড় অনুসন্ধান করা হয়। পরে ‘চ’ বগির টয়লেট থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বা কোনো চক্র কৌশলে ট্রেনের ভেতরে গাঁজাগুলো রেখে পরিবহনের চেষ্টা করেছিল।

এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা মাদকের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

রেলপথে মাদক পরিবহন প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়। এ ধরনের ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও রেলপথে শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত তল্লাশি অভিযানকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিচে ঘটনার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

বিষয়বিবরণ
ট্রেনের নামউপবন এক্সপ্রেস
রুটসিলেট থেকে ঢাকা
ঘটনার স্থানব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন
অভিযান সময়বৃহস্পতিবার ভোর
উদ্ধারকৃত মাদকগাঁজা
পরিমাণ১০ কেজি
উদ্ধার স্থানট্রেনের ‘চ’ বগির টয়লেট
অভিযান পরিচালনারেলওয়ে পুলিশ
নির্দেশনা প্রদানকারীসিলেট রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার

রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে রেলপথে মাদক চোরাচালান রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানিয়েছেন।