ঝিকরগাছায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় আবু হুরাইরা মিম নামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ায় হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার ভোরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কসংলগ্ন ঝিকরগাছা পৌর এলাকার একটি বাঁশবাগানের নিচে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবু হুরাইরা মিম পৌর সদরের কীর্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মশিয়ার রহমান ওরফে মশির বড় ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে কয়েকজন পথচারী মহাসড়কের পাশের নয়নঝুলির কাছে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে কাছে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় যুবকের লাশ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মিমের পরিবারে স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। ছোট মেয়েটির বয়স মাত্র ২১ দিন। জীবিকার তাগিদে তিনি কিছুদিন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালালেও বর্তমানে কোনো স্থায়ী পেশায় যুক্ত ছিলেন না। পরিবার বলছে, তার সঙ্গে কারো দৃশ্যমান বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না।

নিহতের মামাতো ভাই মারুফ বলেন, মিম স্বভাবের দিক থেকে শান্ত ছিলেন এবং এলাকায় কারো সঙ্গে বড় ধরনের দ্বন্দ্বের খবর কখনো শোনা যায়নি। ফলে কী কারণে তাকে হত্যা করা হলো, তা নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোথাও সংঘটিত হয়েছে। পরে দুর্বৃত্তরা মরদেহটি মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়, যাতে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা যায়। কারণ ঘটনাস্থলের আশপাশে বড় ধরনের ধস্তাধস্তি বা রক্তের আলামত খুব বেশি পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া জানান, নিহতের মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর আঘাত রয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
নিহতের নামআবু হুরাইরা মিম
বয়স২৫ বছর
বাড়িকীর্তিপুর গ্রাম, ঝিকরগাছা
উদ্ধারস্থলযশোর-বেনাপোল মহাসড়কসংলগ্ন বাঁশবাগান
সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণধারালো অস্ত্রের আঘাত
পারিবারিক অবস্থাস্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান
তদন্তের অবস্থাপুলিশি অভিযান চলমান

স্থানীয়দের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে এভাবে একটি মরদেহ পড়ে থাকার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ বলছে, প্রযুক্তিগত তথ্য, স্থানীয় সূত্র এবং নিহতের সাম্প্রতিক চলাফেরা বিশ্লেষণ করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।