জাপানে আফগানিস্তানের দূতাবাস শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। টোকিওতে আফগান রাষ্ট্রদূত শিদা মোহাম্মদ আবদালি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, “ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি টোকিও ছাড়ছি।” তিনি নিশ্চিত করেছেন, সেই দিন থেকে জাপানে আফগান দূতাবাসের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
দূতাবাস বন্ধ হওয়ার আগে এটি আফগানিস্তান ও জাপানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছিল। জাপানে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট নবায়ন, ভিসা প্রসেসিং এবং অন্যান্য কনস্যুলার সেবা প্রদানে এটি একটি প্রধান সংস্থা ছিল।
দূতাবাস বন্ধ হওয়ার পেছনের প্রেক্ষাপট মূলত ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের সঙ্গে যুক্ত। তখন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আফগান দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম সংকুচিত বা স্থগিত হতে থাকে। অনেক সাবেক সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কূটনীতিক বরখাস্ত হন এবং কিছু মিশনের কার্যক্রম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের কারণে সীমিত হয়।
জাপান এখনও তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। দেশটি মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সীমিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। কূটনৈতিক স্বীকৃতি না থাকা সত্ত্বেও জাপান আফগান নাগরিকদের সহায়তায় সীমিত কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
বিশ্বব্যাপী আফগান দূতাবাসের বর্তমান অবস্থা নিম্নরূপ:
| দেশ | দূতাবাসের বর্তমান অবস্থা | কার্যক্রম সীমাবদ্ধতার কারণ |
|---|---|---|
| জাপান | বন্ধ | রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ |
| যুক্তরাষ্ট্র | কার্যক্রম সীমিত | তালেবান ক্ষমতা দখল |
| যুক্তরাজ্য | সীমিত কার্যক্রম | নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে |
| কানাডা | কার্যক্রম স্থগিত | কূটনৈতিক স্বীকৃতি নেই |
| জার্মানি | সীমিত | মানবিক সহায়তা কেন্দ্র |
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আফগান দূতাবাসের সংকোচনের ফলে বিদেশে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। পাসপোর্ট নবায়ন, ভিসা আবেদন এবং অন্যান্য জরুরি সেবা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে আফগান নাগরিকদের মৌলিক কনস্যুলার অধিকার নিশ্চিত করা যায়।
যদিও জাপানে আফগান দূতাবাস বন্ধ, তবে জাপানি সরকার মানবিক ও উন্নয়নমূলক সহায়তার মাধ্যমে আফগান জনগণের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। বিশেষভাবে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শরণার্থী সহায়তার মতো ক্ষেত্রগুলোতে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগান দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ হলেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কনস্যুলার সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে আফগান নাগরিকদের জন্য জরুরি সেবা প্রদান সম্ভব।
