জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৪:১৮ পিএম

ব্রাজিলিয়ান লিগে শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে নাটকীয় ২-২ গোলে ড্র করে সান্তোসকে হার থেকে রক্ষা করেছিলেন নেইমার। পেনাল্টি থেকে করা তাঁর গোলেই ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরে দলটি। কিন্তু মাঠের সেই নায়কোচিত পারফরম্যান্সের পরও ম্যাচটি ঘিরে বিতর্ক থামছে না। বরং ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটির খবর সামনে আসায় সান্তোসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচের বিরতিতে দলের কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন নেইমার। প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল বনতেম্পো ও জোয়াও অ্যানানিয়াস। ঘটনাটি ঘিরে সান্তোসের ড্রেসিংরুমে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ক্লাবের অভ্যন্তরে এমনও আলোচনা রয়েছে যে, বিরতির সময়ের এই বিরোধ দলের দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যাচটি নেইমারের জন্য অবশ্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর মাঠে ফেরার প্রথম ম্যাচেই তিনি জোড়া গোল করে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখান। সান্তোস শুরুতে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে শাপকোয়েন্স দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে সান্তোসকে এক পয়েন্ট এনে দেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।
তবে ম্যাচে নেইমারের ভূমিকা শুধু গোলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুরো ম্যাচজুড়েই তিনি রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের ব্রুনো তুবারার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। চলতি মৌসুমে নির্দিষ্ট সংখ্যক হলুদ কার্ডের সীমা পূর্ণ হওয়ায় এই কার্ডের কারণে পরবর্তী লিগ ম্যাচে নিষিদ্ধ হয়েছেন নেইমার। অর্থাৎ, মাঠে ফেরার পরপরই গোলের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি তাঁকে আবারও শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এর মধ্যেই ড্রেসিংরুমের কথিত বিরোধের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গ্লোবো-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিরতির সময় বনতেম্পোকে উদ্দেশ করে নেইমার কঠোর মন্তব্য করেন। এমনকি তরুণ খেলোয়াড়টির বর্তমান ফর্ম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কটূক্তিও করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
নেইমারের ঘনিষ্ঠ মহলও অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, বনতেম্পো ও অ্যানানিয়াস দুজনেই স্বীকার করেছেন যে দুই অর্ধের মাঝের বিরতিতে তাঁদের সঙ্গে নেইমারের তর্ক হয়েছিল। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কটূক্তি বা অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগ তাঁরা অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে সান্তোসের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দলের ভেতরের কোনো বিরোধ যেন মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলে, সেটিই এখন ক্লাব কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। এ কারণে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সান্তোসের জন্য পরিস্থিতিটি এমনিতেই স্পর্শকাতর। নেইমার শুধু দলের সবচেয়ে বড় তারকা নন, তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও। তাঁর উপস্থিতি মাঠে যেমন দলের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করে, তেমনি তাঁর অভিজ্ঞতা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই তারকাকেই ঘিরে যদি ড্রেসিংরুমে বিভাজন তৈরি হয়, তা হলে তার প্রভাব পুরো দলের ওপর পড়তে পারে।
এখন সান্তোসের লক্ষ্য পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। নেইমারের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরবর্তী ম্যাচে তাঁকে বাইরে থাকতে হবে। ফলে মাঠের বাইরে থাকার এই সময়টিও দলের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে তদন্তের ফল এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বক্তব্য পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি থামছে না।
মন্তব্য