খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুন ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

চিকিৎসক দীপ্রা তাবাসসুমের সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাটি পারিবারিক নির্যাতন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির পারিবারিক কাঠামোর এক নির্মম বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। ঘটনাটি থেকে স্পষ্ট হয় যে, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে শিক্ষার হার বা উচ্চ সামাজিক মর্যাদা কোনো প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে না।
মৃত দীপ্রা তাবাসসুম পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন। সন্তান জন্মদানের পর নারীদের শরীরে যে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, তার কারণে তিনি ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ বা সন্তান জন্মদান-পরবর্তী বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং এর জন্য চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই সংবেদনশীল সময়েও তিনি চরম পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁর প্রতি চরম অমানবিক আচরণ করেন।
দীপ্রা তাবাসসুমের শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর স্বামী পেশায় একজন চিকিৎসক, শ্বশুরও একজন চিকিৎসক এবং শাশুড়ি একজন প্যাথলজিস্ট। এত উচ্চশিক্ষিত পরিবার হওয়া সত্ত্বেও দীপ্রা তাবাসসুমকে গৃহবধূ হিসেবে কোনো ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা দেওয়া হয়নি এবং তাঁর অসুস্থতার সময়েও কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হয়নি।
এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও সামনে এসেছে। নিচে তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া হলো:
| ব্যক্তি | পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা |
| ডা. দীপ্রা তাবাসসুম | ভুক্তভোগী, পেশায় একজন চিকিৎসক যিনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। |
| ডা. সিয়াম | ডা. দীপ্রার স্বামী, পেশায় একজন চিকিৎসক এবং প্রত্যক্ষ নির্যাতনের অভিযুক্ত। |
| শাবনাজ রশিদ দিয়া | ডা. সিয়ামের বড় বোন (দীপ্রার ননদ), মেটা (Meta)-র বাংলাদেশ বিষয়ক সাবেক কর্মকর্তা। |
| সিমু নাসের | শাবনাজ রশিদ দিয়ার স্বামী এবং ‘ইয়ার্কি’ (earki)-র সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। |
ঘটনার পর থেকে ডা. দীপ্রা তাবাসসুমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সকল অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় (ডিজেবল) করে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর পূর্বের বিভিন্ন পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়া, মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে যেন এই আত্মহত্যার প্ররোচনার খবরটি প্রকাশিত না হয়, সেজন্য একটি মহল থেকে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা মনে হলেও, এর পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতন ও মানসিক প্ররোচনা ছিল স্পষ্ট। ডা. দীপ্রার নিজের পরিবারও তাঁকে এই সংকটকালে কোনো কার্যকর সহায়তা করতে পারেনি। তাঁর মা স্কিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত এবং তাঁর বাবা ও ভাইও সংকটের সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়াননি।
নারী অধিকার কর্মীদের মতে, ভুক্তভোগীর পরিবার যদি প্রভাবশালী পক্ষের সাথে আপস করে ফেলে, তবে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে অপরাধী পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করার বিষয়টিকে একটি বিকল্প প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য