ফিলিস্তিনের গাজা শহরকে একটি ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। প্রায় দুই বছর ধরে চলতে থাকা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে, গাজার দখল নিতে আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধির আগমুহূর্তে এই ঘোষণা এসেছে।
জেরুজালেম থেকে এএফপি জানায়, গাজায় ইসরাইলের ক্রমাগত হামলার কারণে সেখানে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। জাতিসংঘ গত সপ্তাহে গাজাকে দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং ইসরাইলকে মানবিক সহায়তা প্রদান বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী করেছে, যা তারা ‘পরিকল্পিত বাধা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গাজা শহরের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক আরবিভাষী মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা আর অপেক্ষা করছি না।” তিনি আরও বলেন, “গাজা শহরে আক্রমণের জন্য আমাদের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে, এবং এখন আমরা শহরের উপকণ্ঠে পূর্ণ শক্তি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছি।”
ইসরাইলের সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির শুক্রবার এক ভিডিও বিবৃতিতে জানান, গাজা শহরে আক্রমণ বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও তীব্র করা হবে।
জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার স্বশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছে।
শুক্রবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা শহর এখন ‘একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে’ এবং সীমিত খাদ্য সরবরাহের অনুমতি দেওয়া সামরিক কার্যকলাপে বিরতি আর থাকবে না। যদিও জনগণকে শহর ত্যাগ করতে বলা হয়নি, তবে আদ্রাই বলেন, “এই সপ্তাহে শহরটি খালি করা অনিবার্য।”
শুক্রবার, দক্ষিণ গাজার একটি এলাকার দৃশ্যে, এএফপি’র ফুটেজে দেখা গেছে, ইসরাইলি হামলার পর ফিলিস্তিনিরা ধ্বংসাবশেষ থেকে বেরিয়ে আসছে। ৪২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবু কামার বলেন, “আমার অন্তর পুড়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর ছাড়তে চাই না, কিন্তু ত্রাণ ছাড়াই উত্তর ও দক্ষিণে যেতে বাধ্য হচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা ক্লান্ত। মৃত্যু আমাদের চারপাশে ঘনিয়ে আসছে।”
