ম্যাচ ফিক্সিংয়ে ৭৩ জনের নিষেধাজ্ঞা

চীনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (সিএফএ) দেশটির ফুটবলে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আজ ৭৩ জনকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। নিষিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন চীনের সাবেক জাতীয় দলের প্রধান কোচ লি তিয়ে এবং একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা। একই সঙ্গে ১৩টি শীর্ষ পেশাদার ক্লাবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সিএফএ-এর সর্বশেষ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, একটি ‘পদ্ধতিগত পর্যালোচনা’ ও গভীর তদন্তের পর এই শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। এই অভিযান মূলত চীনা ফুটবলে ঘুষ ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কাণ্ড দমন করতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের নেতৃত্বে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।

নিষিদ্ধদের মধ্যে লি তিয়ে এমন এক প্রাক্তন কোচ, যিনি একসময়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব এভারটনের খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ইতিমধ্যেই ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এর পাশাপাশি চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান চেন শুয়ুয়ান, যিনি প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত, তাকেও আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সিএফএ-এর তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ও শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কোচ, ক্লাব কর্মকর্তা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রয়েছেন। ১৩টি ক্লাবের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তাদের ‘অর্থনৈতিক জরিমানা, পয়েন্ট কাটা ও শীর্ষ লিগ থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা’ অন্তর্ভুক্ত।

নিম্নে শাস্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

পদবিনামশাস্তিঅতিরিক্ত মন্তব্য
সাবেক জাতীয় কোচলি তিয়েআজীবন নিষিদ্ধ২০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত
সাবেক চেয়ারম্যানচেন শুয়ুয়ানআজীবন নিষিদ্ধ১.১ কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
অন্যান্য কোচ/ক্লাব কর্মকর্তাআজীবন নিষিদ্ধম্যাচ ফিক্সিং ও ঘুষ কাণ্ডে জড়িত

সিএফএ-এর মুখপাত্র বলেন, “এই পদক্ষেপ চীনা ফুটবলে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমরা সকল স্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

চীনা ফুটবল সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘোষণা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি দেশের ফুটবলকে আরও পেশাদার এবং স্বচ্ছ করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণে আরও কয়েকটি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এই ঘটনায় চীনের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এক দুর্নীতি দমন অভিযান হিসেবে এটিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা দেশের ফুটবল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নৈতিক মানদণ্ড স্থাপন করার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।