ডিজিটাল ও অনলাইনের দাপটের মধ্যেও সিঙ্গাপুরে জীবন বীমা কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের প্রধান ভরসা হয়ে রয়েছেন আর্থিক উপদেষ্টা ও বীমা পরামর্শকরা। দেশটির সাধারণ মানুষ নিজেদের আর্থিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে এখনো সরাসরি পেশাদারদের পরামর্শ নেওয়াই বেশি নিরাপদ মনে করছেন। ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধে (জানুয়ারি থেকে জুন) সিঙ্গাপুরে বিক্রি হওয়া মোট নতুন জীবন বীমা বা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসির প্রায় ৭৯.৪ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে দুটি প্রধান পরামর্শক চ্যানেলের হাত ধরে। এসবের মধ্যে রয়েছে আর্থিক উপদেষ্টা (এফএ) প্রতিনিধি এবং সংস্থার নিজস্ব বা টাইড প্রতিনিধিরা।
লাইফ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (এলআইএ) সিঙ্গাপুরের প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এই দুটি পেশাদার চ্যানেলের মাধ্যমে দেশটির গ্রাহকরা মোট ৫ লাখ ৪ হাজার ৯৫১টি নতুন জীবন বীমা পলিসি কিনেছেন। মূলত বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ায় নাগরিকরা নিজেদের সঞ্চয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ সম্পদ ব্যবস্থাপনা সুসংগঠিত করতে নতুন করে বীমা পর্যালোচনা শুরু করেছেন। সেই চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করেছেন মাঠপর্যায়ের পরামর্শকরা।
নতুন ব্যবসায়িক প্রিমিয়াম সংগ্রহের দিক থেকে সবচেয়ে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন ফাইনান্সিয়াল এডভাইজরি বা এফএ প্রতিনিধিরা। এই খাতের প্রিমিয়াম আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫.৯ শতাংশ বাড়তে দেখা গেছে। গত বছরের প্রথম অর্ধে এই খাত থেকে প্রিমিয়াম অর্জিত হয়েছিল ৭৭ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার, যা তৎকালীন হিসেবে ৯৯ কোটি ৪ লাখ সিঙ্গাপুরী ডলার। আর চলতি বছরের প্রথম অর্ধে সেই অঙ্ক একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩৫ কোটি সিঙ্গাপুরী ডলারে। গোটা বীমা খাতের সংগৃহীত মোট ভারযুক্ত প্রিমিয়ামের ৩৭.৩ শতাংশ এবং মোট বীমাকৃত অর্থের (সাম অ্যাসিউরড) ৪০.৮ শতাংশ এসেছে এই একটি মাধ্যম থেকে।
তবে একক পলিসি বিক্রির সংখ্যার পরিমাপে যৌথভাবে নয়, বরং সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন বিমা সংস্থার নিজস্ব টাইড প্রতিনিধিরা। মোট বিক্রি হওয়া নতুন পলিসির ৪০.৭ শতাংশ একাই সম্পাদন করেছেন তারা। আধুনিক ফিনটেক ও অনলাইন প্রযুক্তির বিপ্লব সত্ত্বেও যে বীমার মতো জটিল আর্থিক নথিতে ব্যক্তিগত আস্থা ও ব্যাখ্যার গুরুত্ব এতটুকু কমেনি, টাইড প্রতিনিধিদের এই সাফল্য সেটিরই প্রমাণ দেয়।
পরামর্শকভিত্তিক প্রধান দুটি চ্যানেলের পাশাপাশি অন্যান্য মাধ্যমগুলোও নতুন ব্যবসায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ব্যাংক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মোট বীমাকৃত অর্থের ২৫.৮ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। অনলাইনে সরাসরি পলিসি কেনার ঝোঁক কিছুটা বাড়লেও তা মোট পলিসির ৫.২ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। কোনো মধ্যস্থতাকারী বা প্রতিনিধি ছাড়া সরাসরি কেনা পলিসির পরিমাণ দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশে।
পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে এলআইএ-এর পক্ষ থেকে ওয়াং জানান, সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের পরিবর্তনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টিতে নজর রেখে শিল্পটিকে আরও সুসংহত করা হবে। নাগরিকদের বীমা সম্পর্কিত শিক্ষা ও সার্বিক আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে যেন সাধারণ গ্রাহকরা নিজেদের জীবন ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ করবে অ্যাসোসিয়েশন।









