দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি সুসংহত রাখা ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুই দিনের সরকারি সফরে কাতার গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে তিনি দোহার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই সফরে অংশ নিয়েছে। সফরসঙ্গী হিসেবে প্রতিনিধিদলে আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া অর্থ ও জ্বালানি খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই দলের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কাতার দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মধ্যপ্রাচ্যের এই বন্ধুপ্রতীম দেশের সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সফরকালে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদল কাতারের সরকারের জ্বালানিবিষয়ক নীতি-নির্ধারক ও বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যৌথ বিনিয়োগের নানা দিক নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যের ওঠানামার মধ্যে সরকারের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কাতারের সঙ্গে সফল আলোচনা দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও শিল্প খাতের উৎপাদন চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
কাতারের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকগুলো শেষ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।








