ব্রেকিং নিউজ :
মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সই হতে পারে ২০টি সমঝোতা চুক্তি অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার: সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন

অর্থনীতি

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে বিশাল আর্থিক প্যাকেজ

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ই জুন ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে বিশাল আর্থিক প্যাকেজ

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল ও চাঙা করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল ও যুগান্তকারী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ঘোষিত এই বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে দেশের কৃষি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে সুনির্দিষ্টভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সমগ্র প্যাকেজের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আর্থিক বরাদ্দ। এছাড়া দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে এই অর্থায়ন সরাসরি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কৃষি হাব ও মৎস্য রপ্তানি খাতে বিশেষ তহবিল গঠন

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের উত্তরবঙ্গকে একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক হাব বা বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সম্পূর্ণ আলাদাভাবে তিন হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক উপায়ে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরাসরি বিদেশে রপ্তানি নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের সাধারণ কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক ও ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পচনশীল কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের হিমায়িত চিংড়ি ও মাছের রপ্তানি বাণিজ্যকে পুনরায় চাঙ্গা করতে আরও দুই হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ সুবিধা ও তহবিল গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণ করার উদ্দেশ্যে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক উপখাতগুলোর উন্নয়নে দারুণভাবে সহায়ক হবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের ইতিবাচক মূল্যায়ন

দীর্ঘ সময় পর দেশের কৃষি খাতে এত বিশাল অংকের সরকারি আর্থিক প্রণোদনা বরাদ্দ করায় এই খাতটি দারুণভাবে পুনরুজ্জীবিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষি অর্থনীতিবিদরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল অর্থায়ন সফল করতে হলে মাঠপর্যায়ে সুষ্ঠু ও অধিক উৎপাদনশীল উপখাতগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রকৃত ও প্রান্তিক চাষি এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাঁদের স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব। ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজটি যদি মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং জাতীয় জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এই বিষয়ে বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, করোনাকালীন সংকটের পরবর্তী সময়ে দেশের কৃষিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক খাতে সরকারি-বেসরকারি বরাদ্দ ও নতুন বিনিয়োগের পরিমাণ retribution বা ক্রমান্বয়ে কমছিল। এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ধরনের সময়োপযোগী প্রণোদনা বাজারে নতুন পুঁজির সঞ্চার করবে এবং উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে বিশেষভাবে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তারা যাঁরা আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হয়েছেন এবং যাঁরা বড় পরিসরে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা এই তহবিলের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই প্রণোদনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে খাদ্য উৎপাদন profes বা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রকৃত চাষিরা খুব সহজে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

২৫ লাখ মানুষের বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬০ হাজার কোটি টাকার এই সামগ্রিক প্রণোদনা প্যাকেজটি মাঠপর্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে নতুন করে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে শুধুমাত্র কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট খাতেই সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন প্রায় ৯ লাখ মানুষ, যাঁরা সরাসরি কৃষি উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক শ্রম এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিভিন্ন স্তরে সম্পৃক্ত হবেন।

এছাড়া উত্তরবঙ্গে প্রস্তাবিত কৃষি হাব গঠনের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের সঠিক বিপণন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন করে আরও এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে বরাদ্দকৃত পাঁচ হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন করে আরও দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে केंद्रीय ব্যাংক।

স্টার্টআপ তহবিল ও মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের তাগিদ

কৃষি খাতে নতুন এবং সম্পূর্ণ উদ্ভাবনী বা আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক আইডিয়া নিয়ে যাঁরা কাজ করতে চান, সেই সব নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এই প্যাকেজে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘স্টার্টআপ’ তহবিল বা অনুদান রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের (এসএমই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এই বিষয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের সরকারি আর্থিক বরাদ্দ দেশের কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক সুফল বয়ে আনে। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছোট ছোট কৃষিভিত্তিক ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটবে এবং নতুন নতুন বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।

তবে এই বিশাল তহবিল বিতরণের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সাবেক সভাপতি এবং ছবি ফিশ প্রসেসিংস্পতি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী বেলায়েত হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ঐতিহাসিক প্রণোদনা ঘোষণায় দেশের হিমায়িত মৎস্য খাতের ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত উজ্জীবিত। তবে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, অর্থায়নকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেদের পছন্দমতো গ্রাহকদের বাড়তি গুরুত্ব দেয়, যার ফলে প্রকৃত ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু উপায়ে সুবিধা নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। মৎস্য খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়া যদি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এই সহায়তা পান, তবে করোনা পরবর্তী সময় থেকে লোকসানে থাকা দেশের চিংড়ি ও মৎস্য অর্থনীতি সম্পূর্ণ নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

মন্তব্য