ইতালিতে ভাই হত্যা, স্বীকারোক্তি ভিডিওকলে

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং এলাকার দুই প্রবাসী ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। পারিবারিক কলহের জেরে ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় প্রবাসী ও দেশে থাকা স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নিহত ব্যক্তি নয়ন ফকির (প্রায় ৩০) এবং অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকির (প্রায় ৩৫) দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন এবং জীবিকার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও বহন করতেন বলে জানা গেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিষয় ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই তর্ক উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

একপর্যায়ে হুমায়ুন ফকির ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়ন ফকির গুরুতর আহত হয়ে মারা যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভিডিও কল করেন। ওই ভিডিও কলে তিনি রক্তাক্ত মরদেহ দেখিয়ে নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে পরিবারের একাধিক সদস্য নিশ্চিত করেছেন। এই দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাস জীবনে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, আর্থিক টানাপোড়েন এবং পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা অনেক সময় এ ধরনের চরম সহিংসতার জন্ম দিতে পারে। এই ঘটনাটি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিচে ঘটনাটির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

বিষয়তথ্য
ঘটনাভাইকে ভাই হত্যা
স্থানলেইজ শহর, ইতালি
নিহতনয়ন ফকির
অভিযুক্তহুমায়ুন ফকির
কারণপারিবারিক বিরোধ ও উত্তেজনা
ঘটনা সময়বুধবার, স্থানীয় সময় রাত ৮টা
পরবর্তী ঘটনাভিডিও কলে স্বীকারোক্তি
আইনগত পদক্ষেপঅভিযুক্ত গ্রেপ্তার

এই নির্মম ঘটনার পর সোনারং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।