খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৮:৪১ পিএম

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক হৃদয়বিদারক ও জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। নিজের স্ত্রীর সক্রিয় সহযোগিতায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে পশুরাম মনিদাস নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। রোববার (২৮ জুন) গভীর রাতে আশুলিয়ার নৈহাটি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। এই বর্বরোচিত ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, রোববার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীটি তাদের বাড়ির পাশে থাকা একটি টিউবওয়েলে পানি আনতে গিয়েছিল। সেই নির্জনতার সুযোগ নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা পশুরাম মনিদাস ও তার স্ত্রী ওই কিশোরীর ওপর চড়াও হয়। মেয়েটি চিৎকার করতে গেলে তার মুখ চেপে ধরে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা তাকে জোরপূর্বক নিজেদের ঘরের ভেতর টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘরের ভেতর ঢোকানোর পর পশুরামের স্ত্রী ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয় এবং পাহারায় বসে। এই সময়ে ভেতরের কক্ষে কিশোরীটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পশুরাম।
নির্যাতনের শিকার কিশোরীটির কান্নাকাটি ও ধস্তাধস্তির শব্দ একপর্যায়ে প্রতিবেশীদের কান পর্যন্ত পৌঁছায়। গভীর রাতে এমন সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় লোকজন পশুরামের ঘরটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন। তারা ঘরের ভেতর থেকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করেন এবং একই সাথে অভিযুক্ত পশুরামকে আটকে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে আশুলিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পাওয়ার পরপরই আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত পশুরাম মনিদাসকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে আসে। এই অমানবিক ও পাশবিক ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পশুরামের পাশাপাশি তার স্ত্রীকেও অপরাধের সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে।
নৃশংস এই অপরাধের বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মূল অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠিয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মেয়েটির শারীরিক ও ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
ওসি আরও স্পষ্ট করে বলেন, শিশুদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মামলার এজাহার অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ আদালতে দ্রুততম সময়ে নিখুঁত চার্জশিট বা অভিযোগপত্র জমা দেবে। এই ঘটনার পর পুরো নৈহাটি এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য