ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে দুই দেশের মধ্যে ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ট্রাম্প জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে।
তবে ঘোষণার মধ্যেই তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। এএফপি জানায়, সংঘাত শুরুর পর এটি ছিল সবচেয়ে তীব্র হামলা।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, ‘ইরান ও ইসরাইল সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।’ যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা তখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা) থেকে ইরান একতরফাভাবে সামরিক অভিযান স্থগিত করবে এবং ১২ ঘণ্টা পর ইসরাইলও একই পদক্ষেপ নেবে।
এরই মধ্যে ইরান কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং আগাম সতর্কবার্তা থাকায় ঘাঁটি খালি করা হয়েছিল।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবেই এ প্রতিক্রিয়া। তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যত বোমা ফেলেছিল, ইরানও সমসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের আকস্মিক ‘প্রতিরোধমূলক’ হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণের পর সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ইরানে ৪০০’র বেশি এবং ইসরাইলে ২৪ জন নিহত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এই বিশৃঙ্খলা অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি।’ চীনও সতর্ক করেছে, এই উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, কাতার হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাবের হুমকি দিয়েছে। দেশটি জানায়, হামলার সময় ঘাঁটিটি ফাঁকা করে ফেলা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। দোহার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে দেখা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়।
এদিকে, সংঘাতের ভয়াবহতা এড়াতে কাতার সাময়িকভাবে তার আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। বিদেশি মিশন ও দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় জনতা জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয়, বিক্ষোভকারীরা ‘আমেরিকানদের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষই এখন সংঘর্ষের বাইরে একটি সমঝোতার পথ খুঁজছে।
