জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

হামের উপসর্গে আরও তিন মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯৩৩

দেশে হামের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে আরও ১৩১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামের পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ জনে। একই সময়ে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৯ জন। দুই শ্রেণির মৃত্যুর হিসাব একত্র করলে এ সময়ের মোট প্রাণহানি দাঁড়ায় ৯৩৩ জনে।

তবে মৃত্যুর এই দুই ধরনের তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে—এমন নয়। অন্যদিকে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে পরীক্ষায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ভিত্তিতে। ফলে রোগের প্রকৃত বিস্তার ও মৃত্যুঝুঁকি মূল্যায়নে উপসর্গজনিত এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য পৃথকভাবে দেখা হচ্ছে।

গত এক দিনেই পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩১ জনের। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৪০৪ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে আরও ১ হাজার ৯৭ জনের শরীরে। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে রিপোর্ট হওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩ জনে।

উপসর্গের ভিত্তিতে শনাক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা নিশ্চিত সংক্রমণের তুলনায় অনেক বেশি। এর একটি কারণ হলো, উপসর্গ দেখা দেওয়া সব রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না বা সব ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল একইভাবে পাওয়া যায় না। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ উপসর্গভিত্তিক ও পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর পরিসংখ্যান আলাদাভাবে প্রকাশ করছে।

হামের বিস্তারের চাপ সবচেয়ে বেশি বোঝা যাচ্ছে হাসপাতালগুলোর ওপর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৭৫ জন।

অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। একদিকে আগের রোগীদের সুস্থ করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর খবর আসছে। ফলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, রোগী শনাক্তকরণ এবং দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর পরিচিত লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে উপসর্গ দেখা দিলেই নিজে থেকে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর ও ফুসকুড়ির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, খেতে বা পান করতে না পারা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব কিংবা খিঁচুনির মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ কমানো এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুসরণ করাও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গ, নিশ্চিত সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা—সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতির ব্যাপ্তি বড়। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং প্রাণহানির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় নজরদারি, দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

হামের পরিস্থিতির প্রধান পরিসংখ্যান

সূচকসংখ্যা
মোট প্রাণহানি৯৩৩ জন
হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু৮৩৪ জন
পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু৯৯ জন
নিশ্চিত হাম শনাক্ত১৮,৪০৪ জন
হামের উপসর্গ রিপোর্ট১,৪৯,৫০৩ জন
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি১,৩০,৬০৯ জন
চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র১,২৫,৭৭৫ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত১৩১ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ১,০৯৭ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু৩ জন

স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়নে এসব পরিসংখ্যান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ও পরীক্ষায় নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করলে হামের বিস্তার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃত্যুঝুঁকি সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। বর্তমান ধারাবাহিকতা বিবেচনায় আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং নতুন সংক্রমণ ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর