পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের করুণ মৃত্যু

জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার মাঝিনা লোহার গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই সহোদর শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গ্রামজুড়ে এখনো বিরাজ করছে স্তব্ধতা ও বিষাদের আবহ, যা সহজে কাটিয়ে উঠতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত দুই শিশু হলো একই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হকের বড় ছেলে হোসেন আলী (১২) এবং ছোট ছেলে রহমত আলী (১০)। হোসেন আলী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং রহমত আলী পড়ত চতুর্থ শ্রেণিতে। দুই ভাই ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত, খেলাধুলাপ্রিয় এবং সহপাঠীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলের দিকে দুই ভাই বাড়ির পাশে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। খেলতে খেলতেই তারা অজান্তে পাশের একটি পুকুরের কাছে চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত তারা পা পিছলে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। আশপাশে তখন প্রাপ্তবয়স্ক কেউ না থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কারও নজরে আসেনি। ফলে তারা কিছু সময় পানির নিচে আটকে থাকে।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাদের না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুরের পানিতে দুই শিশুর নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারে নেমে আসে কান্নার রোল, যা পুরো গ্রামকে শোকাহত করে তোলে।

ঘটনার খবর পেয়ে পাঁচবিবি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

গ্রামের প্রতিবেশীরা জানান, দুই ভাই ছিল খুবই হাসিখুশি ও বন্ধুসুলভ। তাদের এমন অকাল মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না। শিশুদের মৃত্যুতে স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নিহত দুই শিশুর পরিচয় সংক্ষেপে নিচে উপস্থাপন করা হলো—

নামবয়সশ্রেণিপিতাঠিকানা
হোসেন আলী১২পঞ্চম শ্রেণিএনামুল হকমাঝিনা লোহার গ্রাম, পাঁচবিবি
রহমত আলী১০চতুর্থ শ্রেণিএনামুল হকমাঝিনা লোহার গ্রাম, পাঁচবিবি

স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ এলাকায় পুকুর, খাল ও অন্যান্য জলাশয়ের পাশে শিশুদের চলাচলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকদের আরও সচেতন হলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

দুই শিশুর অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে এখনো শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ, যা স্থানীয়দের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।