সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নাতনি তাতিয়ানা শ্লোসবার্গ ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ তথ্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে জন এফ কেনেডি লাইব্রেরি ফাউন্ডেশন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা করেছে। পরিবার জানিয়েছে, “আমাদের প্রিয় তাতিয়ানা আজ সকালেই আমাদের মাঝে নেই। তিনি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।”
তাতিয়ানা শ্লোসবার্গ ছিলেন একজন বিশিষ্ট জলবায়ু সাংবাদিক। গত নভেম্বর মাসে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তিনি জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন যে বেঁচে থাকার সময় এক বছরের কম হতে পারে।
তাতিয়ানা শ্লোসবার্গ ডিজাইনার এডউইন শ্লোসবার্গ এবং কূটনীতিক ক্যারোলিন কেনেডির কন্যা ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের মে মাসে তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ‘অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া’ ধরা পড়ে। এই রোগ হলো রক্ত ও অস্থি মজ্জার একটি দ্রুত বর্ধনশীল ক্যান্সার, যা অস্থি মজ্জার স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে।
শ্লোসবার্গ লিখেছেন, “আমার প্রথম চিন্তা ছিল আমার সন্তানদের প্রতি। তারা আমাকে মনে রাখতে পারবে না।” তিনি কেমোথেরাপি এবং অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েছেন, কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার আশ্বাস দিতে পারেননি।
তাতিয়ানার পরিবার ইতিমধ্যে বহু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির মধ্যে দিয়ে গেছে। তার দাদা, জন এফ কেনেডি, ১৯৬৩ সালে নিহত হন এবং তার চাচা জন এফ কেনেডি জুনিয়র ১৯৯৯ সালে একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। তার ছোট ভাই জ্যাক শ্লোসবার্গ বর্তমানে নিউ ইয়র্কে কংগ্রেসের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তাতিয়ানা শ্লোসবার্গের জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | ১৯৯০-এর দশকে (প্রায়) |
| বয়স | ৩৫ বছর |
| পেশা | জলবায়ু সাংবাদিক |
| পরিবার | মা: ক্যারোলিন কেনেডি, বাবা: এডউইন শ্লোসবার্গ |
| রোগ | অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া |
| চিকিৎসা | কেমোথেরাপি, অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন |
| বিশেষ ঘটনা | ২০২৪ সালের মে মাসে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম |
| পরিবারে পূর্ববর্তী ট্র্যাজেডি | দাদা নিহত ১৯৬৩, চাচা নিহত ১৯৯৯ |
তাতিয়ানা তার প্রবন্ধে লিখেছেন, “আমি সবসময় চেষ্টা করেছি একজন ভালো বোন, ভালো মেয়ে এবং ভালো ব্যক্তি হতে। এখন আমি আমাদের পরিবারের জীবনে একটি নতুন ট্র্যাজেডি যুক্ত হতে দেখছি, কিন্তু থামাতে পারছি না।”
তার অকাল মৃত্যু না শুধু পরিবার, বরং সাংবাদিক সমাজের জন্যও এক বড় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। তাতিয়ানার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত সাহসিকতা তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
