সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পুরোনো বিরোধের জের ধরে জুমার নামাজে যাওয়ার পথে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে একপর্যায়ে গ্রামটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের শাহারপাড়া (নারায়ণপুর) গ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে দুই ব্যক্তি সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন—নারায়ণপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা আব্দুল হাকিম এবং পার্শ্ববর্তী তিলক গ্রামের জিলু আলীর ছেলে মিসবাহ উদ্দিন (৩০)। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে জানা যায়, নারায়ণপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আন্দুর মিয়ার ছেলে আতাব মিয়ার দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। জায়গা-জমি ও গ্রামের অভ্যন্তরীণ প্রভাবকে কেন্দ্র করে এই দুই পরিবারের মধ্যে অনেক দিন ধরেই বৈরী সম্পর্ক ও টানাপোড়েন বিদ্যমান ছিল। ইতিপূর্বেও তাঁদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলেও জুমার দিন সেই পুরোনো শত্রুতা রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।
আজ দুপুরে জুমার নামাজ আদায় করতে গ্রামের মানুষ যখন মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই রাসেলের অনুসারীদের সঙ্গে আতাব মিয়ার সমর্থকদের মুখোমুখি দেখা হয়ে যায়। প্রথমে দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গোলাগুলি। জুমার নামাজের মুখে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষে গ্রামের সাধারণ মুসল্লি ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে আতাব মিয়ার পক্ষের সমর্থক আব্দুল হাকিম ও মিসবাহ উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ ও সংঘাতের মুখে পথচারীরা প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান।
সংঘর্ষের পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের সরাসরি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের জরুরি বিভাগে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছেন।
সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই জগন্নাথপুর থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পুরো গ্রামজুড়ে এখন চরম থমথমে পরিবেশ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং অস্ত্রধারী জড়িতদের খুঁজে বের করার তৎপরতা চালাচ্ছে।









