জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

রাজশাহী কলেজ উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রধান প্রাণকেন্দ্র: ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী কলেজ শুধুই শতবর্ষী একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি পুরো উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা, সমাজ ও সংস্কৃতি বিকাশের মূল ধারক ও বাহক। ঢাকার হেয়ার রোডে রাজশাহী কলেজের ঐতিহাসিক ১৫০তম বর্ষপূর্তি উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। কলেজের আবেগঘন স্মৃতি ও গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজশাহী কলেজ আমাদের সবার গর্ভধারিণী মায়ের মতো। মায়ের সন্তানরা যেমন দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে থাকলেও এক স্নেহের বাঁধনে যুক্ত থাকে, ঠিক তেমনি এই দেড়শত বর্ষপূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণে কলেজের সব প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীকে এক ছাতার নিচে সমবেত হতে হবে।

ভূমিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেড়শ বছরের এই ঐতিহাসিক পথচলা উদযাপনের মূল লক্ষ্য কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি হবে বর্তমান ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও ধারণার আদান-প্রদানের এক অনন্য সেতুবন্ধন। এই মিলনমেলা মূলত রূপ নেবে ঐক্য, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং হাজারো শিক্ষার্থীর আত্মপরিচয়ের এক প্রাণবন্ত উৎসবে। ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপিঠ তার সুদীর্ঘ ইতিহাসে এমন বহু কৃতী সন্তান তৈরি করেছে, যাঁরা দেশ ও বিদেশের নানা অঙ্গনে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষর রেখেছেন এবং জাতীয় রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন।

ঐতিহাসিক এই স্মরণীয় ক্ষণটিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে নিবন্ধনের মাধ্যমে উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান ভূমিমন্ত্রী। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অ্যালামনাইদের সমন্বয় সহজ করতে প্রয়োজনে মহাদেশভিত্তিক পৃথক অ্যালামনাই কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি রাজশাহী কলেজের এই দেড়শ বছরের গৌরবময় পথচলাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে চিরভাস্বর করে রাখতে কলেজ প্রাঙ্গণে একটি অনন্য স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়া নিশ্চিত করতে কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নানা রূপরেখা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রাজশাহী কলেজে সর্বাধুনিক সুবিধাসংবলিত বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক অডিটোরিয়াম স্থাপন, দূরদূরান্ত থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার জন্য নতুন আবাসিক হল তৈরি এবং কলেজের ঐতিহাসিক প্রাক-খেলার মাঠের পরিবেশগত ও কাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কলেজটি যেমন শিক্ষায় আরও এগিয়ে যাবে, তেমনি তার নান্দনিক রূপও উদ্ভাসিত হবে।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই প্রস্তুতি সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. সাইদুর রহমান খান, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব এস.এম. জহুরুল ইসলাম।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে কলেজের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষকমণ্ডলী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে সর্বসম্মতিক্রমে দীর্ঘ দেড়শত বছরের ইতিহাসকে সম্মান জানাতে এই পুনর্মিলনী উৎসবকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মিলনমেলায় পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর