টানা ১০ সপ্তাহেরও বেশি সময় দেশের বাইরে থাকার পর ক্যামেরুনে ফিরেছেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ রাষ্ট্রপ্রধান পল বিয়া। তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে শারীরিক অসুস্থতা ও দেশ পরিচালন সংক্রান্ত নানামুখী জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই অবশেষে নিজ দেশে অবতরন করলেন ৯৩ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থাকার পর বিদেশে এটাই তাঁর সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সফর।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ভাড়া করা একটি বিশেষ বিমানে ফার্স্ট লেডি চান্তাল বিয়াকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানী ইয়াউন্ডের এনসিমালেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। এর আগে গত ৭ জুন “ইউরোপে সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে” যাওয়ার উদ্দেশ্যে ক্যামেরুন ত্যাগ করেছিলেন পল বিয়া। অবতরণের পর বিমানবন্দরে তাঁকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর সড়কপথে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গাড়িবহরে করে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ‘ইউনিটি প্যালেস’-এর দিকে রওনা হন তিনি।
প্রেসিডেন্টকে একনজর দেখতে এবং অভ্যর্থনা জানাতে রাজধানীর প্রধান রাজপথগুলোতে শাসক দল ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের হাজার হাজার সমর্থক ও কর্মী জড়ো হন। এ সময় সমর্থকদের হাতে দলীয় পতাকা ও বিয়ার প্রশংসাসূচক ব্যানার দেখা যায়। গাড়ির আধখোলা জানালা দিয়ে হাত নেড়ে অপেক্ষমাণ সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান বর্ষীয়ান এই পোলিটিশিয়ান।
রাষ্ট্রপ্রধানের দীর্ঘদিন প্রকাশ্যের বাইরে থাকা এবং সরকারি কোনো বার্তা না পাওয়ায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিল প্রশাসনিক স্থবিরতা ও গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। প্রশাসনিক সব সিদ্ধান্ত পল বিয়ার একক ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিরোধী দলগুলো তাঁর অনুপস্থিতিতে বিকল্প নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তোলে। বিরোধী নেতারা সাংবিধানিক পরিষদের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন যে, প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র পরিচালনায় সাময়িকভাবে অক্ষম হলে সংবিধানে থাকা ক্ষমতা হস্তান্তরের নিয়মটি খতিয়ে দেখা উচিত।
ক্যামেরুনের বিদ্যমান সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের মৃত্যু, পদত্যাগ বা স্থায়ীভাবে অসমর্থতার ক্ষেত্রে পদ শূন্য ঘোষণা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট অথবা সিনেটের প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন। এপ্রিলে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদটি আইনিভাবে পুনর্বহাল করা হলেও পল বিয়া এখনো কাউকেই সেই পদে মনোনীত করেননি। ফলে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তরাধিকারের নাম ঘোষণা না করায় ভবিষ্যতে হঠাৎ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজন দেখা দিলে দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে তাঁর এই সাম্প্রতিক প্রত্যাবর্তন আপাতত সাময়িক হলেও দেশজুড়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনায় খানিকটা ইতি টেনেছে।








