জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের জমি দখল করে আবার গড়ে তোলা হলো বিএনপির পার্টি অফিস

বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক ঘেঁষে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মূল্যবান সরকারি জমি দখল করে বিএনপির দলীয় কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। মহানগরীর ব্যস্ততম তিনমাথা রেলগেটের পাশে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সংলগ্ন এলাকায় গভীর রাতে একটি টিনশেড ঘর তোলা হয়। পরবর্তীতে স্থাপনাটির সামনে ‘মহানগর ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’ লেখা একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, মহাসড়কের সংযোগস্থল ঘেঁষে সওজের প্রায় ৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে সবুজ রঙের একটি নতুন টিনশেড হাফওয়াল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পথচারী ও স্থানীয় যানবাহনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ঘরটির সামনে টাঙানো নতুন সাইনবোর্ডটি।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দিষ্ট স্থানটি দখলের ইতিহাস বেশ পুরনো। বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার আগে এলাকাটি সদর উপজেলার ফাঁপোর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই সময় ২০০৩ সালে ফাঁপোর ইউনিয়ন বিএনপি প্রথম সওজের এই জায়গায় টিনশেড ঘর তুলে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হলে ২০০৫ সালে বিএনপির তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর নির্দেশে ঘরটি ভেঙে ফেলা হয় এবং জায়গাটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তী দেড় দশকে একাধিকবার স্থানটি পুনরায় দখলের চেষ্টা চালানো হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা কয়েক দফায় নতুন অবকাঠামো তৈরির চেষ্টা করলেও সওজের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তা উচ্ছেদ করা হয়। বিশেষ করে ২০২২ সালে পুনরায় ঘর তোলা হলে সওজ কর্তৃপক্ষ তা উচ্ছেদ করে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন করে। এ পর্যন্ত অন্তত ছয়বার এই স্থানে নির্মাণ করা দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবাদে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ফাঁপোর ইউনিয়ন বিএনপি পুনরায় জায়গাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলে। সম্প্রতি এলাকাটি নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলে সেটিকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

সরকারি জায়গায় কার্যালয় নির্মাণ প্রসঙ্গে ফাঁপোর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, “এটি সওজের পরিত্যক্ত জমি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ইউনিয়ন অফিস ছিল। মাঝে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হলেও পটপরিবর্তনের পর নেতাকর্মীরা আবার ঘর তৈরি করেন। এখন এলাকাটি সিটির অধীনে আসায় ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়টি ব্যবহার করছে।”

বিষয়টি স্বীকার করে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, “জায়গাটি সরকারি সওজের তা আমরা অস্বীকার করছি না। এর আগে ছয়বার এখানে অফিস নির্মাণ করা হলেও তা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ের কারণে যদি জনদুর্ভোগ তৈরি হয়, তবে আমরা নিজ দায়িত্বে তা সরিয়ে নেব।” একই আশ্বাস দিয়েছেন ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মিলনও।

বিষয়টি নজরে আনা হলে বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি স্পষ্ট জানান, “সরকারি জমি দখল করে কোনো রাজনৈতিক কার্যালয় করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সরকারি জায়গায় অফিস না করার বিষয়ে শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুততম সময়ে সেখান থেকে সাইনবোর্ড ও উচ্ছেদ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিচ্ছি।” জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও মহানগর সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরুও স্থানটি দ্রুত দখলমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ বিষয়ে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক জানান, “সওজের আওতাধীন জমিতে যেকোনো বেআইনি দখলদারি কঠোর হাতে দমন করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি। সরেজমিন তদন্ত শেষেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে।”

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর