ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন উত্তাপ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশ ওমানের বিরুদ্ধে চরম আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ওমান কোনো বাধা তৈরি করলে দেশটিতে সরাসরি সামরিক হামলা চালানো হবে বলে সোমবার (১৭ আগস্ট, ২০২৬) চরম হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক ফোনালাপে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ওমান যদি আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা তাদের ওপর ব্যাপক বোমা হামলা চালাব।” ইরানের সঙ্গে সংঘাত অবসানে নির্ধারিত দুই মাসের সমযসীমা (এমওইউ) শেষ হওয়ার দিনই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিষোদ্গার সামনে এল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের কৌশলগত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা ওমানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এমন সরাসরি হুমকি বৈশ্বিক কূটনীতিকদের স্তম্ভিত করেছে।
তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রশাসন তাড়াহুড়ো করছে না উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, এই সংঘাত মেটানোর জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা ডেডলাইন রাখবেন না। ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, চলমান সংকটের অবসানে ইরানকে ‘আত্মসমর্পণের’ প্রতীক স্বরূপ সাদা পতাকা উড়ানো উচিত। এছাড়া নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন পুরোপুরি প্রতিরোধ করাই ওয়াশিংটনের প্রধান এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য।
উত্তেজনার মূল নেপথ্যে রয়েছে গত জুনে জি-সেভেন (G7) সম্মেলনের পর স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা চুক্তি, যার মেয়াদ সোমবার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। বর্তমানে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট পথ বা রুট ম্যাপ নির্ধারণে ইরান ও ওমানের কূটনৈতিক আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এতে ট্রাম্প চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান, কারণ ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বা মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণার আভাস দিয়ে আসছিলেন।
দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র ওমান এভাবে ইরানের সাথে পৃথক আলোচনা পরিচালনা করায় ওয়াশিংটনের সামরিক অবরুদ্ধকরণ কৌশল কিছুটা বাধার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন হুমকির পরও নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথ ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ওমানের সাথে তাদের নীতিগত বৈঠক ও যৌথ ইশতেহার চূড়ান্ত করার কাজ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।









