ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর শান্তিনগরে ব্যক্তিগত চেম্বার শেষে বের হয়ে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার সময় একদল ব্যক্তি তাকে মারধর করে আহত করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর এ হামলার ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫৫ বছর বয়সী অধ্যাপক আসাদুর রহমান বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় তার মাথা, চোখ ও নাকে আঘাত লাগে।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী রাশেদুল ইসলাম জানান, শান্তিনগরের পপুলার শাখার তিন নম্বর ভবনে ব্যক্তিগত চেম্বার শেষ করে অধ্যাপক আসাদুর রহমান মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরার জন্য সিএনজি অটোরিকশায় উঠছিলেন। এ সময় চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি অটোরিকশাটি থামিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে তিনি জানান।
রাশেদুল ইসলাম বলেন, হামলার পর অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে কারা হামলা করেছে বা ঠিক কী কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল খান। তিনি জানান, হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যে হামলার পেছনে একজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই ব্যক্তি নিজেকে সংশ্লিষ্ট রোগীর বন্ধু বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, অধ্যাপক আসাদুর রহমান ওই রোগীকে ‘ভুল চিকিৎসা’ দিয়েছেন। এ অভিযোগ থেকেই রোগীর বন্ধু ও স্বজনেরা চিকিৎসকের ওপর হামলা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তবে পুলিশ বিষয়টিকে এখনই চূড়ান্ত কারণ হিসেবে দেখছে না। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল খান বলেন, এটি গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া বক্তব্য এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল, হামলার পেছনে কী ধরনের বিরোধ ছিল এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অধ্যাপক আসাদুর রহমানের পক্ষ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামলার বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক ও হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসকের ওপর প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় চিকিৎসক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রোগীর চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষ বা অভিযোগ থাকলে তা আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই চিকিৎসকের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি কী ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।









