জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

হাসিনা ৯৮ শতাংশ গ্যাস ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিলেন—দাবির তথ্য নেই পেট্রোবাংলায়

বিগত সরকারের আমলে দেশের গ্যাস খাতের বিশাল অংশ বিশেষ কোনো দেশের হাতে সমর্পণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তবে তাঁর এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের সপক্ষে রাষ্ট্রীয় তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) কাছে কোনো ধরনের দালিলিক বা তথ্যগত ভিত্তি নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে জ্বালানি খাত নিয়ে যখন নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন যে বিগত সরকারের সময় দেশের ৯৮ শতাংশ গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ একটি বিশেষ দেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, তৎকালীন সরকারের এই ধরনের ভুল নীতি এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি অব্যবস্থাপনার ফলেই আজ দেশের সাধারণ মানুষ ও শিল্পকারখানাগুলো তীব্র গ্যাস সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
তবে এর বিপরীতে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, চিফ হুইপের উত্থাপিত এই দাবির কোনো সত্যতা বা তথ্য তাদের দপ্তরে সংরক্ষিত নেই। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পেট্রোবাংলার অপারেশন ডাইরেক্টর মো. শোয়েব স্পষ্ট ভাষায় জানান যে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্যের অস্তিত্ব পেট্রোবাংলার কাছে নেই। ফলে চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে যে ৯৮ শতাংশ গ্যাসের নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেছেন, তার সুনির্দিষ্ট উৎস বা বাস্তব ভিত্তি কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। পুরোনো ক্ষেত্রগুলোর মজুদ ফুরিয়ে আসায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে দেশকে ক্রমবর্ধমানভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। গ্যাস সংকটের পেছনের কারণ হিসেবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মূলত দেশীয় অনুসন্ধানে ধীরগতি, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আমদানিনির্ভরতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন।
চিফ হুইপের বক্তব্যে সরাসরি কোনো দেশের নাম উচ্চারণ করা না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে ‘বিশেষ দেশ’ বলতে প্রতিবেশী ভারতকে ইঙ্গিত করে নানা সমালোচনা চলতে থাকে। তবে পেট্রোবাংলার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাস সম্পদের সিংহভাগ অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেওয়ার মতো কোনো প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের রেকর্ড তাদের কাছে নেই। জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তগুলোকে রাজনৈতিকভাবে দায়ী করা হলেও, ৯৮ শতাংশ গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের এই নির্দিষ্ট দাবিটি নিয়ে পেট্রোবাংলার স্পষ্ট অস্বীকৃতি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর