জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

আওয়ামী আমলে গ্যাসকূপ খনন হয়নি—তারেক রহমানের দাবি নিয়ে প্রশ্ন দুই ফ্যাক্টচেক সংস্থার

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে দেশে একটিও গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি মর্মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য সঠিক নয় বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দেশের দুটি স্বনামধন্য ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি একটি জনবহুল অনুষ্ঠানে প্রদত্ত উক্ত বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে গভীর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আলাদাভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘ফ্যাক্ট ডিটেক্টর বাংলাদেশ’ ও ‘দ্য ডিসেন্ট’। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিগত সরকারের ওই শাসন আমলেই দেশের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কূপ খনন ও নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘটনা ঘটেছিল।
অনুষ্ঠিত ওই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মূলত দাবি করেছিলেন যে পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তাঁর সেই মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে মাঠে নামে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ‘ফ্যাক্ট ডিটেক্টর বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সুদীর্ঘ ওই সময়সীমার মধ্যে দেশে সর্বমোট ১৫৫টি গ্যাসকূপ সফলভাবে খনন করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার ভেতর দেশের ভৌগোলিক সীমানায় নতুন করে আরও ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হওয়ার আনুষ্ঠানিক তথ্যও তুলে ধরেছে তারা।
প্রতিবেদনে ২০০৯ এবং ২০২৪ সালের জ্বালানি খাতের সার্বিক চিত্র পাশাপাশি রেখে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ২০০৯ সালে যেখানে দেশে মোট সচল গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ২০টি, সেখানে ২০২৪ সালে এসে সেই সংখ্যাটি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। এছাড়া একই সময়কালের ব্যবধানে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের সার্বিক সরবরাহ বৃদ্ধি, গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনের দীর্ঘ নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান ও খনন সক্ষমতার ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। এই সমস্ত পরিসংখ্যান ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রামাণ্য দলিল পর্যালোচনা করে ‘ফ্যাক্ট ডিটেক্টর বাংলাদেশ’ নিশ্চিত করেছে যে বিগত আমলে একটিও গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি—এমন দাবি করার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। তাদের মূল্যায়নে এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এদিকে অপর ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ একই বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে প্রায় একই ধরনের উপসংহারে পৌঁছেছে। তাদের তথ্য যাচাই প্রতিবেদনেও পরিষ্কার ভাষায় বলা হয়েছে যে বিগত সরকারের আমলে গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি মর্মে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার মেয়াদে ১৫৫টি গ্যাসকূপ খনন এবং নতুন ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের অনুসন্ধানেও প্রমাণিত হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে উচ্চারিত ‘গত ১৭ বছরে একটি গ্যাসকূপও খনন করা হয়নি’ এই বক্তব্যটিকে তারা সরাসরি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছে।
ফ্যাক্টচেক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে তাদের এই তথ্য যাচাইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল কেবল সুনির্দিষ্ট ওই পরিসংখ্যানটির সত্যতা মূল্যায়ন করা। এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের জ্বালানি খাতের সামগ্রিক সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার সার্বিক কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। তাদের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল নির্দিষ্ট ওই দাবিটি বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক কি না, তা জনসমক্ষে তুলে ধরা। সংগৃহীত সব পরিসংখ্যান ও প্রামাণ্য নথিপত্র প্রমাণ করে যে নির্ধারিত সময়ে দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কূপ খনন করা হয়েছিল। ফলে তথ্যের সত্যতার নিরিখে ওই দাবিটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়নি।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর