খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৬:৩ পিএম

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের একটি বসতঘর থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামতের অপেক্ষায় রয়েছে।
নিহত মো. কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। বড় সন্তানের বয়স প্রায় পাঁচ বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স মাত্র দুই মাস। বাবা-মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দুই শিশুকে ঘিরে স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে মৃত্যুর জন্য অন্য কাউকে দায়ী না করে স্বেচ্ছায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার কথা লেখা ছিল। তবে চিরকুটের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে না। তদন্তের অংশ হিসেবে এর সত্যতা, প্রেক্ষাপট এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি ও কলহ চলছিল। তাদের ধারণা, সেই বিরোধের জের ধরেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করেনি।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা, হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো কারণে সংঘটিত হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
মন্তব্য