খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৫:১১ পিএম

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা জেলা শাখার নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘গোপালগঞ্জ গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির পর ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মিছিলে অংশ নেওয়া অন্যদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল প্রায় ৬টার দিকে হাজারীবাগ এলাকার একটি সড়কে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরের শান্ত পরিবেশে শতাধিক ব্যক্তি অল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। কর্মসূচিটি কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং সাবেক কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের দিকনির্দেশনায় মিছিলটি আয়োজন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। পুরো কর্মসূচি খুব অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘর্ষ, ভাঙচুর বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মিছিলের তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মিছিলে অংশ নেওয়া অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনুমোদনহীন কর্মসূচি থেকে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ রাখা হচ্ছে, যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
মন্তব্য