খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:৯ পিএম

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার একটি লবণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় শিল্পাঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্তের প্রস্তুতি চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার বানু মেম্বার টেকে অবস্থিত কনফিডেন্স লবণ কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কারখানার একটি অংশে ঝালাইয়ের কাজ চলাকালে হঠাৎ শর্টসার্কিটের সূত্রপাত হয়। সেখান থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়ে মুহূর্তের মধ্যে পাশেই রাখা কাগজের স্তূপে ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত আগুনের বিস্তার ঘটায় কর্মরত শ্রমিকদের অনেকেই নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি এবং কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হন।
দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন বোয়ালখালীর রুহুল আমিনের ছেলে দিদারুল আলম (৩২), রাঙ্গুনিয়ার বিরাজ মোহন দাশের ছেলে উজ্জ্বল দাশ (৫৩), সদরঘাটের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগাড়ার ছালে আহমদের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজানের মৃত আমিনুল হকের ছেলে জাহিদুল আলম (৪২), বোয়ালখালীর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (৩৮), বোয়ালখালীর নূর চ্চাপার ছেলে নূর নবী (২৫), পটিয়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলম (৪৫), পটিয়ার খায়ের আহমদের ছেলে মাহামুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশের আলতাজ মিয়ার ছেলে সেলিম উদ্দিন (৩০)।
দুর্ঘটনার পর সহকর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বার্ন ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা দগ্ধদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। যাদের দগ্ধের পরিমাণ বেশি, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, কারখানার অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনের দগ্ধের মাত্রা গুরুতর হওয়ায় অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কারখানায় ঝালাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং আগুন দ্রুত কাগজের স্তূপে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এর আগেই শ্রমিকরা দগ্ধ হন।
শিল্পকারখানায় অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে ঝালাই, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও দাহ্য পদার্থের সংরক্ষণে নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ ঘটনার পর কারখানাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্তব্য