খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:১ পিএম

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় নদীর পানিতে ডুবে একসঙ্গে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চান্দেরকান্দী ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকার কাকন নদীতে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে চার শিশুর এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতরা হলো বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), একই গ্রামের রুবেল মিয়ার দুই মেয়ে জান্নাত ইসলাম (৯) ও আশেয়া (৯), এবং বিল্লাল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১০)। তারা সবাই স্থানীয় গাউছিয়া নূরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরে মাদ্রাসা ছুটি শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। পথে তারা কাকন নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় ৬ থেকে ৭ জন শিশু নদীতে নামলেও হঠাৎ একজন গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্য শিশুরাও পানির স্রোত ও গভীরতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
শিশুদের পানিতে ডুবে যেতে দেখে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের সম্মিলিত চেষ্টায় প্রথমে তিনজনকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। একই সময় আরও দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন নিখোঁজ ছিল। পরে স্থানীয়দের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে নিখোঁজ সুমাইয়ার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোট চার শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুর রহমান জানান, হাসপাতালে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার বিষয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, নদীতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় শিশুদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে কাকন নদীর পানির গভীরতা ও স্রোত বেড়ে যায়। ফলে নদীতে গোসল বা সাঁতার কাটতে নামলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধান ছাড়া নদী বা জলাশয়ে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ নদীঘাটগুলোতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এ ধরনের অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
একসঙ্গে চার শিশুর অকাল মৃত্যু বড়কান্দা গ্রামসহ পুরো রায়পুরা উপজেলায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়দের কান্নায় পুরো এলাকা ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় সবাই শোকাহত এবং ভবিষ্যতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য