খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

বিশ্ব নারী ফুটবলের দলবদলের বাজারে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক বিশাল চমক তৈরি হলো। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা এবং দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা অ্যালেক্সিয়া পুটেলাস ইংল্যান্ডের ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসে যোগ দিয়েছেন। মুক্ত খেলোয়াড় বা ফ্রি এজেন্ট হিসেবে তিন বছরের চুক্তিতে এই ইংলিশ ক্লাবে পাড়ি জমিয়েছেন স্প্যানিশ এই মহাতারকা। এর মধ্য দিয়ে স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সেলোনার হয়ে তাঁর দীর্ঘ ১৪ বছরের এক চোখধাঁধানো ও সোনালী অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
গত মে মাসে বার্সেলোনার সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের বাঘা বাঘা সব ক্লাব পুটেলাসকে দলে ভেড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার বেছে নিয়েছেন লন্ডন সিটিকে। বার্সেলোনার জার্সিতে পুটেলাসের ক্যারিয়ার ছিল সাফল্যে মোড়ানো। কাতালান ক্লাবটির হয়ে তিনি ১০টি লিগ শিরোপাসহ রেকর্ড ৩৮টি ট্রফি নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। এমনকি গত মরশুমেও অধিনায়ক হিসেবে বার্সেলোনাকে উয়েফা উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চতুর্থ শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। এমন একজন বিশ্বসেরা ফুটবলারের ইংল্যান্ডের উইমেনস সুপার লিগে (ডব্লিউএসএল) যোগ দেওয়াকে ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে লন্ডন সিটির মার্কিন ধনকুবের মালিক মিশেল ক্যাংয়ের উপস্থিতিতে পুটেলাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবের নতুন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। নতুন এই যাত্রায় নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পুটেলাস বলেন, “লন্ডন সিটি লায়নেসের সঙ্গে এই নতুন অধ্যায় শুরু করতে পেরে আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত।”
দলবদলের বাজারে চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ বা আর্সেনালের মতো বিশ্বখ্যাত ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কেন তিনি তুলনামূলক নতুন এবং স্বাধীন এই ক্লাবটিকে বেছে নিলেন, সেই রহস্যও উন্মোচন করেছেন পুটেলাস। তিনি জানান, ইউরোপের বড় বড় দলগুলো মূলত কোনো পুরুষ ফুটবল ক্লাবের ছায়ায় বা তাদের অধীনে পরিচালিত হয়। কিন্তু লন্ডন সিটি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং শুধু নারীদের ফুটবলের উন্নয়নের জন্যই নিবেদিত একটি স্পেশাল ক্লাব। এই ক্লাবের হয়ে একদম গোড়া থেকে নতুন এক ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জটিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে। বিশেষ করে ক্লাবটির মালিক মিশেল ক্যাং-এর নারী ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বৈপ্লবিক পরিকল্পনা পুটেলাসকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফুটবলের তৃণমূল ও যুব ফুটবল নিয়ে কাজ করার দীর্ঘদিনের ইচ্ছার কথাও জানান এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। পুটেলাস বলেন, “মাঠের বাইরে যুব ফুটবল উন্নয়নের প্রতি আমার যে ভালোবাসা ও টান রয়েছে, তা বজায় রাখতে চাই। ইংল্যান্ডে এবং পুরো বিশ্বমঞ্চে নারী ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মিশেলের দূরদর্শী ভাবনার সাথে কাজ করতে আমি সমানভাবে মুখিয়ে আছি।”
লন্ডন সিটি লায়নেস ডব্লিউএসএল-এ তাদের প্রথম মরশুমে ষষ্ঠ স্থানে থেকে লিগ শেষ করেছিল। এবার পুটেলাসের মতো একজন অভিজ্ঞ, বিশ্বজয়ী ও ক্ষুরধার মিডফিল্ডারকে দলে পাওয়ায় আগামী মরশুমে ক্লাবটি যে ইংলিশ ফুটবলের শিরোপার দৌড়ে বড়সড় ঝাঁকুনি দেবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
মন্তব্য