খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ১০:১১ পিএম

নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের অপ্রত্যাশিত হারে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর এই চরম বিপর্যয়ের রাতে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন সেলেসাওদের প্রাণভ্রমরা নেইমার জুনিয়র। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল এই ব্রাজিলিয়ান তারকার। প্রায় দেড় দশক পর এক অদ্ভুত নিয়তি যেন তাকে ফিরিয়ে আনল সেই চেনা আঙিনায়। যে মাঠে ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল, চোখের জলে সেই মাঠেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন তিনি। বিদায়ী ম্যাচে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেও দলকে জেতাতে পারেননি এই সান্তোস ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারলাম না। আজ এখানেই সব শেষ হলো। এই মাঠেই আমার শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই শেষ করতে হচ্ছে।” ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মারাত্মক চোট ও অফ ফর্মের কারণে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে কাটাতে হয়েছিল তাকে। অনেক লড়াই করে বিশ্বকাপের ঠিক আগে ফিট হয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্কোয়াডে জায়গা করে নিলেও শেষটা বড্ড নির্মম হলো। তবে জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেও ক্লাব ফুটবল নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ এখনো পরিষ্কার করেননি তিনি।
নেইমারের এই আকস্মিক বিদায়ের ঘোষণায় ভেঙে পড়েছেন বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি ভক্ত। সেই তালিকায় আছেন তার সবচেয়ে বড় পরামর্শক ও বাবা নেইমার সিনিয়রও। তবে তিনি চান না তার ছেলে এখনই বুটজোড়া তুলে রাখুক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন খোলা চিঠিতে তিনি ছেলেকে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
ছেলের ছোটবেলার দিনগুলোর কথা মনে করে নেইমার সিনিয়র লেখেন, “আমরা একসাথে একটা দীর্ঘ ও কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। চলার পথে অনেক বাধা এসেছে, কষ্ট এসেছে, কিন্তু আমাদের ক্লান্তি ছিল না। পায়ে ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখা সেই ছোট্ট ছেলেটাকে ঈশ্বর যে এত দূর নিয়ে আসবেন, তা কখনো ভাবিনি। তবে খুব অল্প বয়সেই বুঝে গিয়েছিলাম, তোমার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে।”
ছেলের বর্ণিল ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্তের সাক্ষী থাকা এই পিতা আরও যোগ করেন, “পুরো পথটায় আমি তোমার পাশে ছিলাম। তোমার প্রথম গোল, প্রথম দল পাওয়া থেকে শুরু করে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া—সবকিছু আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তুমি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠলে, একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!”
চিঠির শেষভাগে ফুটবল মাঠের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে তিনি লেখেন, “আমরা একসাথে হেসেছি, কেঁদেছি, সাফল্য উদ্যাপন করেছি। ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া আমাদের এই রূপকথা সম্ভব হতো না। তাই বাবা হিসেবে তোমার কাছে আমার একটাই শেষ অনুরোধ—তুমি ফুটবল খেলা ছেড়ো না, খেলাটা চালিয়ে যাও।” বাবার এমন আবেগঘন বার্তার পর নেইমার ক্লাব ফুটবলে নিজের পথচলা কতটা দীর্ঘ করেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
মন্তব্য