খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৮:৩৯ পিএম

টানা অতি ভারি বর্ষণে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর জনজীবন। নগরীর অধিকাংশ নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। ভারি বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল এবং কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি মিলিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে নগরীর বহু দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, আর চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের এই উচ্চমাত্রা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অবিরাম বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সোমবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করছে। অতীতেও বর্ষাকালে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির নজির রয়েছে। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে চকবাজার, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, হালিশহর, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরা, বড়পোল এবং কমার্স কলেজসংলগ্ন এলাকা। এসব স্থানে সড়কের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমেও। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নগরীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষ, পথচারী এবং দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে নগরীতে গণপরিবহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচলও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম দেখা গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেকেই বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানা গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। তিনি জানান, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য