খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৩ পিএম

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে আরেকটি হাইভোল্টেজ লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে দুই দলই সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক গোল করে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন হালান্ড। তার গতি, শারীরিক সক্ষমতা, নিখুঁত ফিনিশিং এবং বক্সের ভেতরে উপস্থিত বুদ্ধি নরওয়েকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়। তাই ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও এই ম্যাচের কৌশল নির্ধারণে হালান্ডকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে হালান্ড। তবে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ তাকে সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। দলগত রক্ষণ, সঠিক অবস্থান এবং পারস্পরিক সমন্বয় ধরে রাখতে পারলে হালান্ডের প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব বলেই বিশ্বাস তার।
তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই অন্য একটি কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। প্রতিপক্ষ হলেও ব্রাজিলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের ভালোবাসার কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ব্রাজিলের খেলা দেখে বড় হয়েছেন। দেশটির আক্রমণাত্মক ফুটবল, সৃজনশীলতা এবং কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের সাফল্য তাকে সবসময় মুগ্ধ করেছে।
হালান্ড বলেন, “ব্রাজিল এমন একটি দল, যাদের খেলা আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। তাদের দলে সবসময় অসাধারণ সব ফুটবলার ছিল। তাই তাদের বিপক্ষে মাঠে নামা আমার জন্য সত্যিই বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা।”
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল শুধু একটি জাতীয় দল নয়, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্রাজিলের নাম উচ্চারিত হলেই পেলে, রোনালদো, রোনালদিনিয়ো, রোমারিও কিংবা নেইমারের মতো অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলারের কথা মনে পড়ে। এমন একটি দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাওয়া যেকোনো ফুটবলারের জন্যই স্মরণীয় মুহূর্ত।
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে সমর্থকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত একটি বার্তা দেন হালান্ড। তিনি বলেন, “আমি ব্রাজিলকে ভালোবাসি।” তার এই মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ব্রাজিলের ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতি একজন প্রতিপক্ষ তারকার শ্রদ্ধা হিসেবে দেখছেন।
তবে আবেগের জায়গা মাঠের বাইরে। হালান্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ম্যাচ শুরু হলে তার একমাত্র লক্ষ্য থাকবে নরওয়েকে জিতিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেওয়া। প্রিয় দলের বিপক্ষে খেললেও নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত তিনি।
অন্যদিকে, ব্রাজিলও চাইবে নিজেদের সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করতে। একদিকে বিশ্বমঞ্চে বহুবারের সাফল্যের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে হালান্ডকে ঘিরে আত্মবিশ্বাসী নরওয়ের নতুন প্রজন্ম—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হতে যাচ্ছে। মাঠের বাইরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করাই হবে দুই দলের একমাত্র লক্ষ্য।
মন্তব্য