খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ১২:৬ এএম

গাজীপুরের শিল্পনগরী টঙ্গী রেলওয়ে জংশন ও এর আশপাশের এলাকায় এক বড় ধরনের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান চালিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১)। আজ সোমবার (২৯ জুন) রাতের এই ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য উদ্ধার করার পাশাপাশি হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ জন মাদক কারবারি ও সেবীকে। পরে ঘটনাস্থলেই র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানটি সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে চলে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বিশেষ অভিযানে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এবং এর সংলগ্ন রেললাইনের ধারের ঝুপড়ি ঘর ও সন্দেহভাজন বিভিন্ন আখড়ায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখে রেলস্টেশন এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, র্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়ামুল হালিম এবং সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার শহিদুল ইসলামের সরাসরি নেতৃত্বে র্যাবের একটি বড় দল এই অভিযানে অংশ নেয়। র্যাবের এই বিশেষ উদ্যোগকে সফল করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ সদস্যরাও মাঠে থেকে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করেন।
যৌথ বাহিনীর সদস্যরা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, ওভারব্রিজ এবং স্টেশন সংলগ্ন বস্তি এলাকায় সাঁড়াশি তল্লাশি চালায়। এ সময় মাদক কারবারিদের গোপন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজার পুড়িয়া এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। এগুলো মূলত রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ভাসমান অপরাধ চক্রের মাধ্যমে সাধারণ তরুণ ও পথশিশুদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি এই চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে ঘটনাস্থল থেকেই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান সমাপ্ত হওয়ার পরপরই সেখানে র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসানের পরিচালনায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) বসানো হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করায় অপরাধের ধরন ও তীব্রতা বিবেচনা করে প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে র্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়ামুল হালিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান সরকারের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির অংশ হিসেবেই এই বিশেষ অভিযানটি সাজানো হয়েছিল। টঙ্গী রেলস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোকে অপরাধমুক্ত রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকা থেকে মাদক ব্যবসা পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ভবিষ্যতেও তাদের এই ধরনের কঠোর ও আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য