গত রোববার অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের তরুণ স্পিন মাস্টার রশিদ খান আরও এক ইতিহাসের পথে এগিয়েছেন। পরদিন সিনিয়র দলের ম্যাচেও একই প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে আফগানিস্তান টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস জোগালো।
টি–টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৮ রানে হারিয়েছে। আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১৮১ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। ১৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে রশিদ খান ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দেন। ২৯ রানে ২ উইকেট নেন মুজিব উর রহমান, আর পেসার জিয়াউর রহমানের তৃতীয় উইকেট আফগান বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করেছে। ব্যাটিংয়ে আফগান ওপেনারদের দ্রুত হারানোর পর ইব্রাহিম জাদরান (৮৭) ও দারউইশ রাসুলি (৮৪) তৃতীয় উইকেটে ১৬২ রানের জুটি গড়েন।
রশিদ খান ইতোমধ্যে টি–টুয়েন্টিতে দ্রুততম ৪০০, ৫০০ ও ৬০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। বর্তমানে তাঁর মোট ৬৯১ উইকেট এবং মাত্র ৯ উইকেট দূরে ৭০০-এর মাইলস্টোন। বর্তমানে ন্যূনতম ৬০০ উইকেট আছে তিনজন বোলারের: রশিদ খান, ডোয়াইন ব্রাভো ও সুনীল নারাইন।
টি–টুয়েন্টিতে শীর্ষ পাঁচ উইকেটশিকারির তালিকা:
| র্যাঙ্ক | বোলার | ম্যাচ | ইনিংস | উইকেট | গড় |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | রশিদ খান (আফগানিস্তান) | ৫০৭ | ৫০৭ | ৬৯১ | ১৮.৫৫ |
| ২ | ডোয়াইন ব্রাভো (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) | ৫৪৬ | ৫৪৬ | ৬৩১ | ২০.৩৫ |
| ৩ | সুনীল নারাইন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) | ৫৭৩ | ৫৭৩ | ৬১৩ | ২১.৪৫ |
| ৪ | ইমরান তাহির (দক্ষিণ আফ্রিকা) | ৪৩০ | ৪৩০ | ৫৭০ | ১৯.৯৮ |
| ৫ | আন্দ্রে রাসেল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) | ৫২১ | ৫২১ | ৫০৮ | ২২.৪৫ |
| ৬ | সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ) | ৪৬১ | ৪৬১ | ৫০৭ | ২১.০১ |
| ৭ | মোস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ) | ৩১৯ | ৩১৯ | ৪১০ | ২১.৫০ |
আফগানিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরও দুটি ম্যাচ খেলবে। যদিও সিরিজেই ৭০০ উইকেটের কীর্তি পূর্ণ হবে না, তবে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রশিদ সম্ভাব্য এই রেকর্ড গড়ে তুলবেন। আফগানিস্তান তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
আফগান অধিনায়ক রশিদ খান বলেন, “দল হিসেবে আমরা ফিট। বিশ্বকাপে ভালো করার আশা রাখি। সঠিক একাদশ ও সমন্বয় নিয়ে ভারতে গিয়ে নিজেদের সর্বোত্তম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই।”
এই ম্যাচে রশিদ দেখিয়েছেন কেন তিনি টি–টুয়েন্টির শীর্ষ বোলার। আফগানিস্তানের মোট সাত বোলারের মধ্যে সর্বোচ্চ ‘ডট বল’ আউটপুটও রশিদ করেছেন—১৫টি। টুর্নামেন্টে তার লেগ স্পিন বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
