জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

১৫ আগস্ট ঘিরে সাবেক এমপি নায়েব আলী গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী জোয়ার্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাতে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও সক্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল আরাপপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নায়েব আলী জোয়ার্দারকে হেফাজতে নেয়। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয় এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কী ধরনের তথ্য বা আলামত পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে নায়েব আলী জোয়ার্দারের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্যই মূল ভিত্তি হিসেবে সামনে এসেছে।

ঝিনাইদহের রাজনীতিতে নায়েব আলী জোয়ার্দার দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে তিনি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পান।

এর আগেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার বাসা থেকে র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তখন তার বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলা থাকার কথা জানানো হয়েছিল।

ওই সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং বিএনপির জেলা সভাপতির বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও ছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

বর্তমান গ্রেপ্তারের ঘটনায় ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আবার সংগঠিত করার চেষ্টার অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নায়েব আলী জোয়ার্দারের গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১৫ আগস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি, জমায়েত কিংবা দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার যেকোনো উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে কোনো কর্মসূচি যাতে সংঘাত বা জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি না করে, সে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে নায়েব আলী জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী, মামলায় কী কী তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় এবং আদালত পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত দেন—এসব বিষয়ের ওপরই তার আইনি অবস্থান নির্ভর করবে।

আইনগতভাবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা বা তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া মানেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়াতেই নায়েব আলী জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি নির্ধারিত হবে।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News