খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৮:১২ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) ক্যম্পাস সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের একটি এটিএম বুথ থেকে নকল চাবি ব্যবহার করে ১৭ লাখ টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তার দুপুরের খাবারের বিরতির সুযোগ নিয়ে বুথেরই নিরাপত্তা প্রহরী এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করে পালিয়ে যান। তবে প্রযুক্তির সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও মুঠোফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানেই দেশের অন্য প্রান্ত থেকে টাকাসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীর নাম আইয়ুব আলী (৫৬)। তিনি কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যেরঘোনা এলাকার বাসিন্দা। চুরির ঘটনার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গতকাল শনিবার রংপুর জেলা সদর থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আজ রবিবার (২৮ জুন) তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখার অধীনে থাকা এই বুথটি মূলত আইআইইউসি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ফি জমা নেওয়ার জন্য ‘কালেকশন বুথ’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গত বুধবার দুপুরে ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুঈনুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো বুথের কাজ করছিলেন। বেলা তিনটার দিকে তিনি দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য বুথে তালা লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানটিনে যান।
খাবার শেষ করে ঠিক আধঘণ্টা পর তিনি যখন আবারও বুথে ফিরে আসেন, তখন সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল। কিন্তু ভেতরে ঢুকে ক্যাশ ড্রয়ার খুলে টাকা গণনার সময় তাঁর চোখ কপালে ওঠে। তিনি দেখেন, এক হাজার টাকার নোটের ১৭টি বান্ডিল ক্যাশবাক্স থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেছে, যার মোট আর্থিক মূল্য ১৭ লাখ টাকা। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি তদন্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বুথের ভেতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করতেই চুরির পুরো রহস্য উন্মোচিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যাংক কর্মকর্তা মুঈনুল ইসলাম ক্যানটিনে যাওয়ার পরপরই বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইয়ুব আলী নিজের কাছে থাকা একটি নকল চাবি ব্যবহার করে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বুথের দরজা খোলেন। এরপর ভেতরে ঢুকে সরাসরি ক্যাশ ড্রয়ার থেকে এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলগুলো বের করে একটি টিস্যু ব্যাগে ভরেন এবং দ্রুত বুথ থেকে বেরিয়ে যান।
ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে। প্রথমে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজারের বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও সেখানে তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। এরপর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নেয় এবং তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান ট্র্যাক করে জানতে পারে যে তিনি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ছেড়ে সুদূর উত্তরবঙ্গের রংপুর জেলা সদরে আত্মগোপন করে আছেন। সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ দ্রুত রংপুর সদরে অভিযান চালিয়ে গতকাল শনিবার আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তার করে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের সময় আইয়ুব আলীর কাছ থেকে চুরি হওয়া ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইয়ুব আলী নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। বাকি টাকা তিনি এই কয়েকদিনে যাতায়াত ও আত্মগোপনে থাকার পেছনে খরচ করে ফেলেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
এর আগে গত শুক্রবার ব্যাংকের চকবাজার শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুঈনুল ইসলাম বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় আইয়ুব আলীকে একমাত্র আসামি করে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। আজ রবিবার আসামিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই চুরির পরিকল্পনার পেছনে ব্যাংকের ভেতরের বা বাইরের অন্য কোনো চক্র জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য