,

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় অ্যারন জোন্স

আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দামামা বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে বড় ধরনের ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট। দলটির অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমন কোডের একাধিক ধারা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জোন্সের অন্তর্ভুক্তি এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপট

৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের মোট পাঁচটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আইসিসির তদন্ত অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলো মূলত বার্বাডোজে ২০২৩-২৪ মৌসুমে অনুষ্ঠিত ‘বিম-১০’ (Beam-10) নামক একটি টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে। উক্ত টুর্নামেন্টটি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (CWI) আওতাভুক্ত হলেও এর সাথে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংশ্লিষ্টতা থাকায় আইসিসি সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এটি একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ এবং এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিচে অ্যারন জোন্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর প্রধান দিকসমূহ তুলে ধরা হলো:

অভিযোগের ধরনসংশ্লিষ্ট কোড/ধারাবিবরণ
ফিক্সিংয়ে সম্পৃক্ততাসিডব্লিউআই আইনম্যাচ বা ইভেন্ট ফিক্সিং করার চেষ্টা বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া।
প্রস্তাব গোপন করাঅনুচ্ছেদ ২.৪.৪কোনো জুয়াড়ি বা বুকির কাছ থেকে আসা দুর্নীতির প্রস্তাব কর্তৃপক্ষকে না জানানো।
তদন্তে অসহযোগিতাঅনুচ্ছেদ ২.৪.৭তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়া বা তথ্য গোপন করে বাধা সৃষ্টি করা।
প্ররোচনা ও প্রলোভনসিডব্লিউআই আইনঅন্য খেলোয়াড়দের দুর্নীতিমূলক কাজে প্ররোচিত করা বা প্রলোভন দেখানো।
আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতাআইসিসি কোডদুটি নির্দিষ্ট অভিযোগ সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে সম্পর্কিত।

ক্যারিয়ার ও বিশ্বকাপের ওপর প্রভাব

অ্যারন জোন্স ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং লাইনের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি এ পর্যন্ত ৫২টি ওয়ানডে এবং ৪৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। এছাড়া তিনি সিপিএল (CPL), বিপিএল (BPL) এবং এমএলসি (MLC)-এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নিয়মিত মুখ ছিলেন। আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে তিনি শ্রীলঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র দলের ১৮ সদস্যের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। নির্বাচকদের ইচ্ছা ছিল ক্যাম্প শেষে চূড়ান্ত ১৫ জনের দল ঘোষণা করা, কিন্তু আইসিসির এই নিষেধাজ্ঞার পর অ্যারন জোন্সকে ক্যাম্প ত্যাগ করতে হচ্ছে।

আইসিসি জোন্সকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে। তবে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় এই সময়ের মধ্যে তিনি কোনো স্তরের ক্রিকেটেই অংশ নিতে পারবেন না। যদি অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন এই মার্কিন ব্যাটার। বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের আগে একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের এমন বিদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের দলীয় সংহতি ও কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।