খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ১১:১২ পিএম

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে সৃষ্ট বিপর্যয় এখন এক মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৯ জনে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বজনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্ধারকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং খালি হাতে কিংবা সাধারণ সরঞ্জাম দিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে চলেছেন।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, “আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রতিটি মানুষকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
গত বুধবার সন্ধ্যায় ভেনিজুয়েলায় পরপর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জানান, এই জোড়া ভূমিকম্পে দেশের লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে শত শত ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্গত মানুষদের মাঝে জরুরি খাদ্য ও পানি বিতরণ করছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও উদ্ধারকর্মীরা বেশ কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, যা তাঁদের কাজের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যার মধ্যে কেবল রাজধানী কারাকাসেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লয়েস পেস বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, একের পর এক আফটারশক বা অনবরত কম্পনের কারণে মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং নতুন করে ধসের ভয়ে লাখ লাখ মানুষ এই মুহূর্তে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছে। তারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।
এদিকে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এক আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, ধ্বংসস্তূপের সম্পূর্ণ অংশ অপসারণ করা সম্ভব হলে এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে ভূমিকম্পে রানওয়ে ও টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিদেশি সাহায্য ও উদ্ধারকারী দল আসার ক্ষেত্রেও কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য