খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ১১:১৭ পিএম

দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ দিন দিন আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নতুন প্রাণহানি যোগ হওয়ার পর চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম এবং এর সমগোত্রীয় উপসর্গ নিয়ে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। শিশুদের এমন ধারাবাহিক মৃত্যুতে অভিভাবক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই ভয়ংকর তথ্য জানা গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও আক্রান্তের গ্রাফ নিচে নামছে না।
প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামের মতো তীব্র উপসর্গ এবং জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪টি শিশু মারা গেছে। এই একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ৮৬৯ জন শিশুর শরীরে হামের স্পষ্ট ও তীব্র উপসর্গ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ, চোখ লাল হওয়া এবং কাশির মতো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিতভাবে হামের নতুন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ১০৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিগত সাড়ে তিন মাসের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে মারা গেছে ৯৩ জন শিশু। তবে ল্যাব টেস্টের বাইরে থাকা এবং হামের সদৃশ তীব্র উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা সব মিলিয়ে এখন ৭০২ জনে গিয়ে ঠেকেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেক সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলে ল্যাব পরীক্ষার সুযোগ পাওয়ার আগেই শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। হামের কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া ও অপুষ্টির মতো জটিলতা তৈরি হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, শিশুদের যথাসময়ে এমআর (হাম ও রুবেলা) টিকা না দেওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে এই বছর সংক্রমণের তীব্রতা অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন জোরদার করা হচ্ছে। কোনো শিশুর মধ্যে লক্ষণ দেখা দিলে তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার এবং অন্যান্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
মন্তব্য