লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুর জেলা সদর উপজেলায় এক প্রবাসী বাংলাদেশির স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে আল আমিন ছৈয়াল নামের এক স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথা লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক আবু হানিফ গণমাধ্যমকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত রবিবার রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

অপরাধের বিবরণ ও পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ

দায়েরকৃত মামলার এজাহার এবং পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আল আমিন ছৈয়াল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের উত্তর চররমনী গ্রামের বাসিন্দা আবু ছৈয়ালের ছেলে এবং তিনি উক্ত ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী সুদূর প্রবাসে অবস্থান করছেন। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত আল আমিন ছৈয়াল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ওই গৃহবধূকে অনৈতিক ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

গৃহবধূ তার এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়শই রাতে তাঁর বসতবাড়ির টিনের চালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো এবং অতিষ্ঠ করে তুলতো। এই কারণে তীব্র নিরাপত্তা হীনতায় ভুগে গত ৯ মাস আগে ওই গৃহবধূ শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে সাময়িকভাবে তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন তিনি পুনরায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পর অভিযুক্ত আল আমিন ছৈয়াল আবারও তাঁকে কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু করে, কিন্তু গৃহবধূ তাতে কঠোরভাবে বাধার সৃষ্টি করেন।

সুপারি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকি

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেছেন যে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বাইরে বের হন। এই সময় আগে থেকে অন্ধকার ঘরের পাশে ওঁৎ পেতে থাকা আল আমিন ছৈয়াল পেছন থেকে এসে আকস্মিকভাবে তাঁর মুখ চেপে ধরে। এরপর তাঁকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী একটি সুপারি বাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে একপর্যায়ে গৃহবধূর গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে জীবননাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই অনৈতিক ও পাশবিক ঘটনার কথা কাউকে জানালে অথবা থানায় মামলা দায়ের করলে ভুক্তভোগীর একমাত্র সন্তান তথা শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি প্রদান করে অভিযুক্ত ব্যক্তি।

স্বজনদের বক্তব্য ও পুলিশি পদক্ষেপ

এই জঘন্য অপরাধের বিষয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা এই পাশবিক অপরাধের সুষ্ঠু বিচার চান এবং অপরাধী যেন আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি পায়, সেই দাবি উত্থাপন করছেন। এই ঘটনার পর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আল আমিন ছৈয়ালের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার তদন্তকারী উপপরিদর্শক আবু হানিফ জানিয়েছেন, গৃহবধূর দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি এখনো পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

লক্ষ্মীপুরের ধর্ষণ মামলার প্রাথমিক বিবরণ ও তথ্যসমূহ

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত উক্ত মামলার প্রধান প্রধান তথ্যসমূহ নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

মামলার প্রধান খাত ও বিবরণ সমূহসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট আইনি ও ব্যক্তিগত তথ্য
অভিযুক্ত ব্যক্তির নামআল আমিন ছৈয়াল
অভিযুক্তের পারিবারিক পরিচয়পিতা: আবু ছৈয়াল, গ্রাম: উত্তর চররমনী
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়চররমনী মোহন ইউনিয়ন যুবদলের নেতা
মামলা দায়েরের সুনির্দিষ্ট তারিখগত রবিবার রাতে (ভুক্তভোগী নিজে বাদী)
ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থানগত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত, স্থানীয় সুপারি বাগান
ভুক্তভোগী নারীর বর্তমান পারিবারিক অবস্থাস্বামী প্রবাসী এবং একমাত্র সন্তানের জননী
অপরাধের ধরন ও ব্যবহৃত অস্ত্রজোরপূর্বক মুখ চেপে ধরা এবং গলায় ছুরি প্রদর্শন
তদন্তকারী থানা ও কর্মকর্তালক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা, উপপরিদর্শক আবু হানিফ
আসামির বর্তমান অবস্থা ও স্থিতিপলাতক (গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান চলমান)

can-এর বাসিন্দারা প্রবাসীর স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।