লামিনে ইয়ামাল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আসরে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন এবং এই অভিষেক আসরেই ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখেছেন। বার্সেলোনার এই তরুণ ডান প্রান্তিক আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিজের প্রথম বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বড় অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়ামাল বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে উনিশ বছর বয়সে পদার্পণ করবেন। তবে শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি কিছুটা চোটে ভুগছেন এবং স্পেনের প্রথম ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
স্পেনের আরেক তরুণ খেলোয়াড় গাভি কাতার বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে গোল করে স্পেনের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই সময় তার বয়স ছিল আঠারো বছর একশ দশ দিন। ইয়ামালের সামনে সুযোগ রয়েছে গাভির পরেই স্পেনের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার।
তবে ইয়ামালের লক্ষ্য শুধু একটি গোল নয়। তিনি আরও বড় অর্জনের কথা বলেছেন। গাভির সঙ্গে মজার সম্পর্কের প্রসঙ্গে ইয়ামাল জানিয়েছেন, গাভি প্রায়ই তাকে বলেন যে বিশ্বকাপে তার রেকর্ড ভাঙা সম্ভব নয়। এর জবাবে ইয়ামাল মনে করেন, তাকে আরও বড় কিছু করতে হবে এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি হ্যাটট্রিক করার স্বপ্ন দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, যদি তিনি দুটি গোল করেন, তবে উদযাপনের সময় গাভিকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে পারেন, কারণ গাভি বিশ্বকাপে একটি গোল করেছেন। তবে তার মূল লক্ষ্য তিনটি গোল করে হ্যাটট্রিক করা।
স্পেন জাতীয় দলের ইতিহাসে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত হ্যাটট্রিক করেছেন মাত্র দুইজন খেলোয়াড়। তাদের মধ্যে একজন এমিলিও বুত্রাগেনিও, যিনি মেক্সিকো বিশ্বকাপে ডেনমার্কের বিপক্ষে চারটি গোল করেছিলেন। অন্যজন মিচেল, যিনি ইতালি বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
নিচের সারণিতে স্পেনের বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকের তথ্য তুলে ধরা হলো—
| খেলোয়াড় | বিশ্বকাপ আসর | প্রতিপক্ষ | গোল সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| এমিলিও বুত্রাগেনিও | মেক্সিকো বিশ্বকাপ | ডেনমার্ক | ৪ |
| মিচেল | ইতালি বিশ্বকাপ | দক্ষিণ কোরিয়া | ৩ |
এই দুই ফুটবলারের কেউই পঁচিশ বছরের কম বয়সে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। ফলে ইয়ামাল যদি তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন, তবে তা স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নতুন সংযোজন হবে।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি ইয়ামাল দলীয় সাফল্যকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। তার মতে, যদি স্পেন শিরোপা জয় করতে পারে, সেটি হবে তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ফাইনাল ম্যাচে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সমর্থকদের সঙ্গে উদ্যাপন করার স্বপ্ন রয়েছে তার, যা তিনি জীবনের সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
