রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম মো. মোকারম মিয়া। তিনি সৌদি আরবপ্রবাসী ছিলেন। সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে এসে তাঁর চাচাতো ভাই রিফাত মরদেহ শনাক্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বুঝে নেন।
নিহত মোকারম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানার তালশহর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সোহরাব মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোকারম দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং প্রায় সাড়ে তিন বছর সেখানে অবস্থান করেন।
মোকারমের চাচাতো ভাই রিফাত জানান, নিহতের স্ত্রী জোনাকি বেগম ১৩ মে বিকেলে ইমোতে তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন। তবে সে সময় মোকারম কোথায় অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। ওই কথোপকথনের পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
রিফাত আরও জানান, ১৪ মে সৌদি আরবে অবস্থানরত মোকারমের এক সহকর্মীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ হয়। ওই সহকর্মী জানান, ১৩ মে দিবাগত রাতে মোকারম বাংলাদেশে রওনা হন। দেশে ফেরার আগে তিনি কিছু মালামাল ওই সহকর্মীর কাছে রেখে যান। তবে দেশে ফেরার পর তাঁর অবস্থান, যাতায়াত বা যোগাযোগ সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা পরে রোববার রাতে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ রাখা হয়েছে। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ার পর স্বজনরা মর্গে গিয়ে মোকারমকে শনাক্ত করেন।
মোকারম মিয়ার পারিবারিক জীবনে স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে রয়েছে। তাঁদের নাম বায়জিদ ও মোজাহিদ। পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মোকারম ছিলেন সবার বড়।
রোববার রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহের সাতটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করা হয়। পরে একই দিন দিবাগত রাতে মানিকনগর এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে একই ঘটনার অংশ হিসেবে শনাক্ত হয়।
ঘটনাটির পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হত্যাকাণ্ডের কারণ, সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | মো. মোকারম মিয়া |
| পেশাগত অবস্থা | সৌদি আরবপ্রবাসী |
| স্থায়ী ঠিকানা | তালশহর গ্রাম, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| সর্বশেষ যোগাযোগ | ১৩ মে বিকেল, ইমোতে স্ত্রীর সঙ্গে |
| দেশে ফেরার তথ্য | ১৩ মে দিবাগত রাতে বাংলাদেশে রওনা |
| মরদেহ উদ্ধার | মুগদার মান্ডা এলাকা |
| উদ্ধারকৃত অবস্থা | সাত টুকরা খণ্ডিত মরদেহ ও পৃথক কাটা মাথা |
| পরিচয় শনাক্তকরণ | ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে |
