খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই মে ২০২৬, ১১:২৮ এএম

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে নিজেদের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের বোলিং ও ব্যাটিং নৈপুণ্যে ৪৬ রানের লিড বা অগ্রগামিতা অর্জন করার পর ম্যাচের দ্বিতীয় দিনেই নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বাগতিকরা ৩টি উইকেট হারিয়ে দলীয় খাতায় ১১০ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিল।
প্রথম ইনিংসের ব্যবধানসহ মোট ১৫৬ রানের লিড নিজেদের পকেটে পুরে আজ সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ দল। এর আগের দিন অর্থাৎ দ্বিতীয় দিনের একদম শেষ মুহূর্তে ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে গেলে আম্পায়ারগণ দ্বিতীয় দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ তৃতীয় দিনে গতদিনের ১৩ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
ম্যাচের চলমান পরিস্থিতি এবং তৃতীয় দিনের প্রথম ভাগের ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান নিচে একটি ছকের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হলো:
| ম্যাচ পরিচালন ও দলীয় অবস্থানের বিবরণ | রান, উইকেট এবং ওভারের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান |
| প্রথম ইনিংসের খেলা শেষে বাংলাদেশের লিড | ৪৬ রান |
| দ্বিতীয় দিনের খেলা সমাপ্তি পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ | ৩ উইকেটে ১১০ রান |
| তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর প্রাক্কালে মোট লিড | ১৫৬ রান |
| অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যক্তিগত রান | ১৫ রান (৪৬টি বল মোকাবেলা করে) |
| অধিনায়ক শান্তকে আউট করা পাকিস্তানি বোলার | খুররম শাহজাদ (লেগ বিফোর উইকেট) |
| বাংলাদেশের লিড ২০০ রান স্পর্শ করার সময়কাল | ৪১তম ওভারের তৃতীয় বল (৪ উইকেটে ১৫৪ রান) |
আজ সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশ দল কিছুটা ধাক্কা খায়। দিনের খেলা শুরু হওয়ার মাত্র পঞ্চম ওভারেই স্বাগতিক দল তাদের চতুর্থ উইকেটটি হারায়। দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৬টি বল খেলে ব্যক্তিগত ১৫ রান করে পাকিস্তানের দ্রুতগতির বোলার খুররম শাহজাদের বলে লেগ বিফোর উইকেট বা এলবিডব্লিউ-এর শিকার হন। মাঠের আম্পায়ারের দেওয়া আউটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ বা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও টেলিভিশনের পর্দায় প্রযুক্তির সাহায্যেও তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি, ফলে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
অধিনায়কের বিদায়ের পর দলের ইনিংস পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মাঠে প্রবেশ করেন লিটন দাস। তিনি উইকেটে এসে মুশফিকুর রহিমের সাথে জুটি বেঁধে অত্যন্ত ধীরস্থির ও সতর্কতার সাথে দলের রানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। ম্যাচের ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলে লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসা একটি একক রান বা সিঙ্গেলের ওপর ভর করে বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের দলীয় লিডের পরিমাণ দুইশ রানের কোটা পার করতে সক্ষম হয়। এই সময়ে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪টি উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান, যা প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানসহ সর্বমোট ২০০ রানের লিড নিশ্চিত করে। ক্রিজে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম এবং লিটন দাস দলের ইনিংসকে আরও বড় করার লক্ষ্যে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজেদের ব্যাটিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
মন্তব্য