ব্রিসবেনের সবুজাভ উইকেটে খেলা শুরুতেই অনুমান করা হয়েছিল বোলারদের আধিপত্য থাকবে। কিন্তু সেই আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দু হবেন মিচেল স্টার্ক—এটা হয়তো কেউ ভাবেনি। তৃতীয় দিনের খেলা যখন শেষ হলো, তখন পুরো বিশ্ব জানল অ্যাশেজের নায়ক হতে স্টার্কের মতো একজনই যথেষ্ট।
সকাল থেকেই ইংলিশ বোলাররা ছিল হতাশ। তাদের পরিকল্পনা যেমন কাজ করেনি, তেমনি কোনো সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া দেখিয়েছে অদম্য মনোবল।
যেখানে বড় ইনিংস গড়ে ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল, সেখানে ব্যাটসম্যানরা মাঝপথে থেমে গেলেও দলগতভাবে রান উঠেছে নিয়মিত।
স্টার্কের ব্যাটিং: লোয়ার অর্ডারের বিদ্রোহ
স্টার্ক যখন উইকেটে নামলেন, তখন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসটা শেষ দিকের দিকে। কিন্তু তিনি এসেই স্ট্রোক খেললেন পরিমিত ঝুঁকি নিয়ে। ডিফেন্স করলেন, গ্যাপ খুঁজে বাউন্ডারি নিলেন, প্রয়োজন হলে লং শট খেলেও রান বাড়ালেন।
তার ৭৭ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহকে শুধু বড় করেনি, বরং ইংল্যান্ডের মনোবলও ভেঙে দিয়েছে।
তার সঙ্গী বোল্যান্ডও যথেষ্ট দৃঢ় ছিলেন। দুইজন মিলে ইংল্যান্ডের বোলারদের ২৭ ওভারেরও বেশি সময় আটকে রেখে লিডকে আরও বড় করেন।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের গল্প
যদি কেউ স্কোরকার্ড দেখে, তাহলে বলবে—এমন লাইন–আপে সেঞ্চুরি না পাওয়াটা অবাক করা ব্যাপার।
কিন্তু প্রতিটি ব্যাটারই নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন:
ওপেনার ওয়েদারল্যাড শুরুটা নিশ্চিত করেন
লাবুশেন–স্মিথ মধ্যভাগ সামলান
ক্যারি ইনিংস লম্বা করেন
স্টার্ক–বোল্যান্ড টেল এন্ডে ধৈর্যের পাঠ দেন
দল হিসেবে এটাই তাদের শক্তি—একজন থামলে অন্যজন এগিয়ে চলে।
ইংল্যান্ডের ফিরে আসার পথ
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু করেছে দুর্দান্তভাবে—৬ ওভারে ৪৫ রান, কোনো উইকেট নেই। এটি প্রমাণ করে যে উইকেটে ব্যাটিং করার সুযোগ আছে।
কিন্তু সমস্যাটা হলো—তাদের সামনে ১৩২ রানের ঘাটতি এবং অস্ট্রেলিয়ার তীক্ষ্ণ বোলিং আক্রমণ।
ইতিহাস দেখায় যে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ইংল্যান্ডের অচেনা নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা অর্জন করতে হলে প্রয়োজন ধৈর্য, পরিশ্রম এবং বড় জুটি।
