সীমান্তে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ পদ্মা নদীতে উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর মো. শওকত আলী (৩৬) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঁঠাপাড়া গ্রামের মৃত মিজানের ছেলে। মরদেহটি সদর উপজেলার পদ্মা নদীর চর এলাকায় ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাতে পদ্মা নদীর চর এলাকায় ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয় জেলেরা। তারা মরদেহটি উদ্ধার করে বিষয়টি আশপাশের লোকজন ও স্বজনদের জানান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। এরপর প্রথমে মরদেহটি বাড়িতে নেওয়া হয় এবং পরে গোপনে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ অবস্থায় খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান জানান, গত ৯ মে মো. শওকত আলী কয়েকজনের সঙ্গে গরু আনার উদ্দেশ্যে সীমান্তের ভারতীয় অংশের দিকে যান। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা ফিরে এলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে গরু আনার সময় শওকত আলী নিখোঁজ হন। পরে নদীতে তার মরদেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গরু নিয়ে ফেরার সময় তিনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে নিহত হয়ে থাকতে পারেন এবং পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, এর আগেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে বিজিবির পক্ষ থেকে কাজ চলছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় নদীর চর এলাকায় ভাসমান ছিল। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সময় ও কারণ নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী নদীপথ ও চর এলাকায় গবাদিপশু আনা-নেওয়ার সময় প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব এলাকায় নদীপথ ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ ও পারাপারের ঘটনাও ঘটে থাকে।

মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।