জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ডিজিটাল রূপান্তর জোরদার ইসলামী ব্যাংকে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা সভা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর ৯টি জোন এবং ৪টি কর্পোরেট শাখার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রৈমাসিক ব্যবসায় পর্যালোচনা সভা। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়কালের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, অগ্রগতি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চলতি দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আলতাফ হুসাইন।

সভায় ব্যাংকের সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নয়ন, আমানত সংগ্রহ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জোনভিত্তিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং তা অর্জনের কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার এবং ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম। এছাড়া ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টরবৃন্দ, প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীবৃন্দ, ৯টি জোনের জোনপ্রধান এবং ৪টি কর্পোরেট শাখার শাখাপ্রধানরা অংশ নেন।

সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যাংকের সামগ্রিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি ইতিবাচক ধারায় থাকলেও জোনভিত্তিক পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য রয়েছে। কিছু জোন আমানত সংগ্রহ ও ডিজিটাল সেবায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও অন্য কিছু অঞ্চলে বিনিয়োগ কার্যক্রম প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে চলছে।

বিশেষভাবে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহক ব্যবহার বৃদ্ধি এবং অনলাইন লেনদেনের বিস্তারকে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় উঠে আসে।

নিচে ত্রৈমাসিক কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—

সূচক/বিষয়জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬ অবস্থাপ্রধান পর্যবেক্ষণ
আমানত সংগ্রহইতিবাচক প্রবৃদ্ধিকিছু জোনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি
বিনিয়োগ কার্যক্রমমিশ্র প্রবণতাকয়েকটি অঞ্চলে ধীরগতি
ডিজিটাল ব্যাংকিংধারাবাহিক উন্নয়নব্যবহারকারী বৃদ্ধি পাচ্ছে
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাতুলনামূলক স্থিতিশীলআরও উন্নয়ন প্রয়োজন
জোনভিত্তিক পারফরম্যান্সঅসমানসমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে গ্রাহকসেবা মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কঠোর নীতিমালা অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি জোনকে নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগ খাতে (এসএমই) সম্প্রসারণ এবং নতুন গ্রাহক আকর্ষণে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় আরও বলা হয়, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এখন ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। তাই অনলাইন ব্যাংকিং সেবা, মোবাইল অ্যাপ উন্নয়ন এবং স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ইসলামী ব্যাংকের এই ত্রৈমাসিক ব্যবসায় পর্যালোচনা সভা শুধু বর্তমান কার্যক্রম মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ, প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তর এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি এবং আধুনিক ব্যাংকিং কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধি আরও সুসংহত ও টেকসই হবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর