জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

হামে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯০৮

দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ১০১ জনের মধ্যে হাম বা হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৮ জনে।

রোববার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দিনে যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। একই সময়ে শনাক্ত হওয়া নতুন রোগীর সংখ্যাও এক হাজার ছাড়িয়েছে, যা দেশে সংক্রমণের ব্যাপকতার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৯০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। আর পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ৯৯ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে হামের উপসর্গ থাকা রোগীদের মধ্যে।

এ সময়ের মধ্যে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যাও এক লাখ ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মানুষের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। পরিসংখ্যানের এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এসেছেন, যদিও সবার ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়নি।

গত ২৪ ঘণ্টার চিত্রও পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। একদিকে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, অন্যদিকে এক হাজার ১০১ জন নতুন রোগী যুক্ত হয়েছেন। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ সামাল দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা অন্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগটির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেশি দেখা দেয়। তাই জ্বর, শরীরে র‍্যাশসহ হামের মতো উপসর্গ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে আসা মৃত্যুর সংখ্যা ও নতুন রোগীর হিসাব দেশের হাম পরিস্থিতির ধারাবাহিক চাপেরই প্রতিফলন। গত পাঁচ মাসে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৪২ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজারে পৌঁছানো পরিস্থিতির বিস্তৃতি স্পষ্ট করছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং যাদের মধ্যে জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের যথাসময়ে চিকিৎসার আওতায় আনা। একই সঙ্গে হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সতর্ক রাখা জরুরি। নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তনও নজরে রাখতে হবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর